আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:৩৮

ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরজুড়ে ইসরাইলি বাহিনী ও সেটেলার তথা অবৈধ বসতিস্থাপনকারীদের হামলা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফার প্রতিবেদনে এসব হামলা ও অভিযানের কথা জানানো হয়েছে।
ওয়াফার তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (২ অক্টোবর) রামাল্লার উত্তরে কোবার এলাকায় ইসরাইলি সেটেলার তথা অবৈধ বসতিস্থাপনকারীদের গুলিতে ১৯ বছর বয়সি এক ফিলিস্তিনি তরুণ নিহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিহত তরুণের নাম বাহা সামি আমিন আল-নাতশেহ বলে জানিয়েছে।
এছাড়া পশ্চিম তীরের প্রায় ২০টি এলাকায় সেটেলার তথা বসতিস্থাপনকারীদের হামলার খবর পাওয়া গেছে। এসব হামলায় জলপাই সংগ্রহের সময় ফিলিস্তিনিদের মারধর ও আহত করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাড়িঘর ও যানবাহনে হামলা, একটি গাড়ি জব্দ, জলপাইগাছ ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং কৃষকদের নিজেদের জমিতে যেতে বাধা দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
অন্যদিকে পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযানও চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। এসব অভিযানে অন্তত ১১ জন ফিলিস্তিনিকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ। অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে আল-আকসা মসজিদের আশপাশেও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের হিসাবে, ২০২৬ সালের শুরু থেকে ইসরাইলি সেটেলার তথা অবৈধ বসতিস্থাপনকারীদের হামলায় এ পর্যন্ত ৩০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ২০২২ সালের পর কোনো পূর্ণ বছরে বসতিস্থাপনকারীদের হাতে নিহতের সংখ্যার তুলনায় চলতি বছরের সংখ্যা ইতোমধ্যে বেশি।
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় আবাসিক ভবনে ইসরাইলি হামলায় শিশুসহ পাঁচ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। যুদ্ধবিরতির প্রায় এক বছর পরও উপত্যকায় কাটেনি খাবার, চিকিৎসা ও নিরাপদ আশ্রয়ের সংকট। গাজার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
যুদ্ধবিরতির প্রায় এক বছর পরও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেনি গাজাবাসী। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে প্রতিদিনের খাবার, চিকিৎসা আর নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য লড়াই করতে হচ্ছে তাদের।
কর্মসংস্থানের সংকটও তীব্র। জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা ইউএনসিটিএডি জানিয়েছে, কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর খুব অল্প অংশ বর্তমানে কাজের সুযোগ পাচ্ছে।
প্রতিদিন বেঁচে থাকার সংগ্রামের মধ্যেই একের পর এক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল। আজ শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে গাজা সিটির রেমাল এলাকায় প্যালেস্টাইন স্টেডিয়ামের কাছে ড্রোন হামলা চালানো হয়। এতে এক কিশোরীসহ অন্তত পাঁচজন নিহত হয়।
রেমাল গাজা সিটির অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকা। সেখানে হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষ পুরো এলাকায় গড়ে ওঠা অস্থায়ী শিবিরগুলোতে আশ্রয় নিয়ে বসবাস করছেন।
আল-শায়ের বলেন, গভীর রাতে বাসিন্দারা যখন ঘুমিয়ে ছিলেন, তখন হামলাটি চালানো হয়। তিনি বলেন, ‘আমরা যুদ্ধবিমানগুলোর শব্দ ক্রমেই জোরালো হতে শুনি। এরপর পরপর তিনটি হামলা হয়। হামলাগুলো অ্যাপার্টমেন্টটিতে আঘাত হানে এবং ভেতরে থাকা লোকজন নিহত হন।’
হামলায় লক্ষ্যবস্তু করা অ্যাপার্টমেন্টটি ভেদ করে নিচের তলাগুলোতেও আঘাত হানে। এতে বহুতল ভবনটির বিভিন্ন অংশে আরও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটে।
এদিকে গাজার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, জীবন রক্ষাকারী ওষুধ, কৃত্রিম অঙ্গসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী প্রবেশে বারবার বিলম্ব হচ্ছে, যা রোগীদের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। সামনে শীত আসায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা করছে জাতিসংঘ।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

