প্রতিবেদক, কক্সবাজার
প্রকাশ: ১ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:৪৭

কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পুলিশের পাহারা ভেঙে হ্যান্ডকাফসহ পালিয়ে গেছে অস্ত্র মামলার এক আসামি। ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো তার সন্ধান মেলেনি। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পাশাপাশি দায়িত্বে থাকা দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। পলাতক আসামিকে ধরতে অভিযান চলছে, সীমান্তে সতর্ক করা হয়েছে বিজিবিকেও।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. অহিদুর রহমান বলেন, গত ২৫ সেপ্টেম্বর উখিয়া থানার আওতাধীন এলাকায় অপহরণসংক্রান্ত একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে দুই রোহিঙ্গা যুবকের কথা-কাটাকাটি ও মারামারি হয়। পরে স্থানীয়রা তাদের মারধর করে অস্ত্রসহ পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। এ ঘটনায় উখিয়া থানায় অস্ত্র আইনে একটি মামলা করা হয়।
তিনি বলেন, স্থানীয়দের মারধরে আহত হওয়ায় প্রথমে তাদের উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে একজন আসামিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চার-পাঁচ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য রেফার করা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ওই আসামির চিকিৎসার সময় পুলিশ লাইন্স থেকে একজন এসআই ও একজন কনস্টেবলকে পাহারার দায়িত্ব দেয়া হয়। গতকাল বিকেল ৫টার পর হাসপাতাল থেকে তাকে ছাড়পত্র দেয়া হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা বিষয়টি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শুভকে জানান। পরে আদালতের কার্যক্রম শেষ হয়ে যাওয়ায় ওই দিন আসামিকে আদালতে হাজির করা সম্ভব নয় বলে জানানো হয় এবং পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত তাকে হাসপাতালে পাহারায় রাখার নির্দেশ দেয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, মাগরিবের সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত এসআই নামাজ পড়তে গেলে একজন কনস্টেবলকে আসামির পাহারায় রাখা হয়। এ সময় সুযোগ বুঝে হাতকড়া পরা অবস্থাতেই আসামি কৌশলে পালিয়ে যায়।
পালানোর পরপরই শুরু হয় অভিযান। কক্সবাজার শহর ও উখিয়ার বিভিন্ন সড়কে বসানো হয় চেকপোস্ট। চালানো হয় মোবাইল টিমের অভিযান। তবে এখনো সন্ধান মেলেনি পলাতক আসামির।
এদিকে, দায়িত্বে থাকা এসআই ও কনস্টেবলের বিরুদ্ধে কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগে বিভাগীয় ব্যবস্থাও নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মো. অহিদুর রহমান বলেন, পালিয়ে যাওয়ার পর তাকে গ্রেফতারে জেলা শহর ও উখিয়ার বিভিন্ন সড়কে চেকপোস্ট বসানো এবং অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট এসআই ও কনস্টেবলের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. অহিদুর রহমান আরও বলেন, পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তি রোহিঙ্গা নাগরিক হওয়ায় সীমান্ত দিয়ে যাতে মিয়ানমারে চলে যেতে না পারে, সে বিষয়েও বিজিবিকে অবহিত করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকায়ও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তাকে পুনরায় গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা তৎপর রয়েছে।

