মহানগর ডেস্ক
প্রকাশ: ১ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:৪০

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ‘লোকাল কনফারেন্স অব ইয়ুথ বাংলাদেশ ২০২৬’-এ বক্তৃতা করছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. সাইমুম পারভেজ।
পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারের কাজের ভুল ও ঘাটতি ধরিয়ে দিয়ে তা সংশোধনে সহযোগিতা করতে তরুণদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক) ড. সাইমুম পারভেজ।
তিনি বলেন, পরিবেশ সুরক্ষাকে কেবল সরকারি প্রকল্প হিসেবে দেখলে সফল হওয়া সম্ভব নয়। তরুণ, সরকার, নাগরিক সমাজসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ‘লোকাল কনফারেন্স অব ইয়ুথ বাংলাদেশ ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. সাইমুম পারভেজ এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের সমালোচনা করুন, আমাদের ভুল ধরিয়ে দিন। আসুন, আমরা পরিবেশ সুরক্ষায় একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করি।’
জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরে সাইমুম পারভেজ বলেন, এ ধরনের তরুণ সম্মেলন ও প্ল্যাটফর্মগুলো তরুণ প্রজন্মকে একত্রিত করার এবং নতুন চিন্তা বিনিময় করার চমৎকার সুযোগ তৈরি করে দেয়। পরিবেশ সুরক্ষায় সবার মাঝে নিজস্ব দায়িত্ববোধ তৈরি হলেই কেবল কার্যকর ও টেকসই পরিবর্তন আনা সম্ভব।
আসন্ন কপ৩১ সম্মেলনে তরুণদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রসঙ্গে তিনি জানান, বৈশ্বিক এই সম্মেলনে বাংলাদেশের প্যাভিলিয়ন সাজানো, অবস্থানপত্র তৈরি এবং মূল আলোচনার বিষয়বস্তু নির্ধারণে তরুণদের সক্রিয়ভাবে যুক্ত করার চেষ্টা করছে সরকার। তরুণদের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রচলিত ধারার বাইরে চিন্তা করার ক্ষমতা নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে তরুণদের উত্থাপিত বিভিন্ন প্রস্তাবনার সঙ্গে সরকারের বর্তমান পরিবেশবিষয়ক উন্নয়ন ভাবনার সামঞ্জস্য রয়েছে উল্লেখ করে ড. সাইমুম পারভেজ বলেন, বিশেষ করে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি ও ব্যাপক বৃক্ষরোপণের বিষয়ে তরুণদের প্রত্যাশা ও সরকারের কাজের যে সমন্বয় দেখা যাচ্ছে, তা প্রশংসনীয়।
আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মূল কর্মসূচিটি এখনও গবেষণা ও প্রাথমিক পরিকল্পনার পর্যায়ে রয়েছে। কোন ভৌগোলিক এলাকায় কোন প্রজাতির গাছ পরিবেশের জন্য উপযোগী, তা বিবেচনায় রেখে দেশীয় প্রজাতিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া উপকূলীয় সুরক্ষায় আড়াই কোটি ম্যানগ্রোভ চারা রোপণের একটি পৃথক প্রকল্প এরইমধ্যে অনুমোদিত হয়েছে, যার কাজ চলতি বছর থেকেই শুরু হতে যাচ্ছে।
শুধু চারা রোপণই শেষ কথা নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, গাছের সঠিক পরিচর্যা ও দীর্ঘ মেয়াদে তা টিকিয়ে রাখাই আসল চ্যালেঞ্জ। এ জন্য প্রযুক্তির সহায়তায় একটি অ্যাপের মাধ্যমে বৃক্ষরোপণ ও এর পরিচর্যা কার্যক্রম সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি রোপণ করা গাছের ৮০০ ভাগ রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নারীদের হাতে তুলে দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
পরিবেশ সুরক্ষায় সর্বাত্মক অংশীদারিত্বের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, পরিবেশের ক্ষতি করে কিংবা বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়িয়ে দেয়, এমন কোনো পদক্ষেপ সরকার গ্রহণ করবে না।

