আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১ অক্টোবর ২০২৬, ১৪:৪১

সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিয়ে কারও সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান। তিনি বলেছেন, হুতিরা ‘বিশৃঙ্খলা ও ধ্বংসের পথ বেছে নিয়েছে’ এবং সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ক্ষুণ্ন করার যেকোনো হুমকি বা হামলার বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে জবাব দেবে রিয়াদ।
ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাজধানী রিয়াদে শুরা কাউন্সিলের নবম অধিবেশনের তৃতীয় বছরের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন মোহাম্মদ বিন সালমান। বাদশাহ সালমানের পক্ষে দেওয়া বার্ষিক ভাষণে তিনি সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ ও পররাষ্ট্রনীতির বিভিন্ন অগ্রাধিকার তুলে ধরেন।
ভাষণে সৌদি যুবরাজ বলেন, ‘সৌদি আরবের নিরাপত্তাকে ক্ষুণ্ন করার লক্ষ্যে যেকোনো হুমকি বা হামলার জবাব দিতে আমরা দ্বিধা করব না।’ তিনি বলেন, সৌদি আরবের দক্ষ মানবসম্পদ ও সামরিক সক্ষমতা রয়েছে, যা যেকোনো উৎস থেকে আসা হুমকি মোকাবিলা ও প্রতিহত করতে সক্ষম।
উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তার বিষয়ে মোহাম্মদ বিন সালমান বলেন, উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) সব সদস্য রাষ্ট্রকে লক্ষ্য করে সাম্প্রতিক হামলাগুলো প্রমাণ করে যে উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা একে অপরের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।
তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের ভাইদের সঙ্গে মিলে উপসাগরীয় নিরাপত্তা রক্ষা, কৌশলগত সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক সংহতি জোরদার এবং যৌথ পদক্ষেপ আরও শক্তিশালী করতে কাজ করছি।’
আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা জোরদারের উদ্যোগ হিসেবে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যকার ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’র কথাও তুলে ধরেন সৌদি যুবরাজ। তার ভাষায়, আঞ্চলিক উত্তেজনা ও সংঘাতের নেতিবাচক প্রভাব এড়ানো এবং নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখার যৌথ প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সৌদি আরবকে সমর্থন এবং দেশটির নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদারে সহযোগিতা করা বন্ধুদেশগুলোর প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
এ সময় বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তায় সৌদি আরবের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন মোহাম্মদ বিন সালমান। তিনি বলেন, বর্তমানে বিশ্ব একটি বড় ধরনের জ্বালানি সংকটের মুখোমুখি, যার প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে।
তিনি বলেন, ‘ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেও আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহ অব্যাহত রেখে সৌদি আরব বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা হিসেবে কাজ করেছে।’
এছাড়া আন্তর্জাতিক জলপথের নিরাপত্তা জোরদার করতে সৌদি আরবের উদ্যোগে মাল্টিন্যাশনাল মেরিটাইম ডিফেন্স অ্যালায়ান্স তথা বহুজাতিক সমুদ্র প্রতিরক্ষা জোটের কথাও জানান তিনি। এর লক্ষ্য আন্তর্জাতিক নৌপথে নিরাপত্তা বাড়ানো, অভিন্ন স্বার্থ সুরক্ষা এবং জলপথকে রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার ঠেকানো।
মোহাম্মদ বিন সালমান বলেন, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সৌদি আরব অংশীদারদের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানো, উত্তেজনা প্রশমিত করা এবং সংঘাতের ঝুঁকি কমাতে কাজ করে যাচ্ছে।
একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় পণ্য ও মানবিক সহায়তার নিরাপদ প্রবাহ নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে নিজেদের দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইয়েমেনের সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনীর সঙ্গে হুতি বিদ্রোহীদের তীব্র লড়াই চলছে। হুতির বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালাচ্ছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। পাল্টা সৌদি আরবে হামলা আরও বাড়িয়েছে হুতিরা।

