খেলা ডেস্ক
প্রকাশ: ১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:০২

মোহাম্মদ রিজওয়ান। ছবি: পিসিবি
পাকিস্তানের উইকেটকিপার-ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান নিশ্চিত করেছেন যে তিনি শুক্রবার (২ অক্টোবর) ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন অথরিটির (এনসিসিআইএ) সামনে হাজির হবেন। একই সঙ্গে তিনি সংস্থাটির কাছে লিখিতভাবে জানতে চেয়েছেন, ঠিক কোন অভিযোগের বিষয়ে তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।
তদন্তকারী সংস্থাটির কাছে পাঠানো রিজওয়ানের তৃতীয় চিঠির একটি কপি জিও নিউজের হাতে এসেছে। সেখানে রিজওয়ান জানান, তিনি নোটিশ পেয়েছেন এবং শুক্রবার সংস্থাটির সামনে হাজির হবেন।
তবে পাকিস্তানের সাদা বলের সাবেক অধিনায়ক বেশ কয়েকটি প্রশ্নের উত্তরও চেয়েছেন। তার দাবি, তার বিরুদ্ধে ঠিক কী অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে, সে বিষয়ে তিনি এখনো পরিষ্কার নন।
রিজওয়ান জানান, প্রথম নোটিশে অনলাইন বেটিং ও জুয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিযোগের কথা বলা হয়েছিল। পাশাপাশি আদালতে সংস্থাটি ২০১৬ সালের প্রিভেনশন অব ইলেকট্রনিক ক্রাইমস অ্যাক্টের (পিইসিএ) অধীনে ইলেকট্রনিক জালিয়াতির কথাও উল্লেখ করেছিল।
তিনি উল্লেখ করেন, সর্বশেষ নোটিশে অনলাইন বেটিং ও জুয়ার অভিযোগের কোনো উল্লেখ নেই। তাই তিনি এনসিসিআইএ-কে বিষয়টি পরিষ্কার করার অনুরোধ করেছেন।
চিঠিতে রিজওয়ান প্রশ্ন করেন, 'তদন্তটি কি এখনো অনলাইন বেটিং বা জুয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত?'
৩৪ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার আরও জানতে চান, পিইসিএ ২০১৬-এর কোন নির্দিষ্ট ধারাগুলো এই তদন্তের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। প্রথম নোটিশের পর তদন্তের পরিধি পরিবর্তিত হয়ে থাকলে সেটিও তাকে লিখিতভাবে জানানোর অনুরোধ করেন তিনি।
রিজওয়ান বলেন, বেটিং ও জুয়া সংক্রান্ত অভিযোগগুলো এমন কিছু দাবির সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেছে, যা তার সুনাম ও ক্রিকেট ক্যারিয়ারে প্রভাব ফেলতে পারে।
তিনি আরও জানতে চান, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি), আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) অ্যান্টি-করাপশন ইউনিট বা অন্য কোনো সংশ্লিষ্ট ক্রিকেট সংস্থাকে এই তদন্ত সম্পর্কে জানানো হয়েছে কি না।
এনসিসিআইএ, পিসিবি বা আইসিসির কাছ থেকে কোনো তথ্য নিয়েছে কি না, অথবা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে কি না, সেটিও জানতে চেয়েছেন রিজওয়ান।
মোবাইল ফোন নিয়ে প্রশ্ন:
রিজওয়ানের চিঠির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল তার মোবাইল ফোন নিয়ে। তার দাবি, ফোনটি এখনো এনসিসিআইএর হেফাজতে রয়েছে। তিনি জানান, ইংল্যান্ডে থাকাকালে তিনি ফোনটির পাসওয়ার্ড দিয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে তার উপস্থিতিতেই ফোনটি আনলক করে পরীক্ষা করা হয়।
রিজওয়ান বলেন, তার মোবাইল ফোন জব্দ করার কোনো রসিদ, পরোয়ানা, হেফাজত সংক্রান্ত নথি বা ফোনটি কেন এখনো সংস্থাটির কাছে রয়েছে, এ বিষয়ে কোনো লিখিত নথি তাকে দেওয়া হয়নি।
ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য তার কাছ থেকে আরও কোনো সহযোগিতা প্রয়োজন কি না, তা এনসিসিআইএকে পরিষ্কার করতে বলেছেন তিনি।
রিজওয়ান আরও অনুরোধ করেছেন, যেন আর কোনো বিলম্ব না করে ফরেনসিক পরীক্ষা শেষ করা হয় এবং তার মোবাইল ফোনটি অবিলম্বে ফেরত দেওয়া হয়। চিঠিতে তিনি বলেন, 'আমার বিরুদ্ধে ঠিক কী অভিযোগ আনা হয়েছে, তা এখনো আমাকে জানানো হয়নি।' একই সঙ্গে তিনি যেকোনো আইনসম্মত তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করার ইচ্ছা পুনর্ব্যক্ত করেন।

