খেলা

পর্তুগালের ক্যাম্প ছেড়ে গেছেন বিক্ষুব্ধ রোনালদো, বিদায়ের গুঞ্জন

খেলা ডেস্ক

প্রকাশ: ১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৯

পর্তুগালের ক্যাম্প ছেড়ে গেছেন বিক্ষুব্ধ রোনালদো, বিদায়ের গুঞ্জন

পর্তুগালের ক্যাম্প ছেড়ে স্পেনের মাদ্রিদে চলে গেছেন রোনালদো। ছবি: রয়টার্স

নরওয়ের বিপক্ষে পুরো ৯০ মিনিট বেঞ্চে বসিয়ে রাখার পর ডেনমার্কের বিপক্ষেও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে বেঞ্চে রাখার সিদ্ধান্তের কথা সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন পর্তুগালের কোচ জর্জ জেসুস। এরপরের ক্ষোভে রোনালদোর পর্তুগালের ক্যাম্প ছাড়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে। অবশেষে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার বিষয়ে মুখ খুলেছেন তিনি। রোনালদো জানিয়েছেন, কেন তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা যথাসময়ে প্রকাশ করবেন। তার বক্তব্যের ধরনকে অনেকেই বিদায়ের সুর হিসেবে দেখছেন।

 

ডেনমার্কে দলের ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার পর পর্তুগালের অধিনায়ক তার অফিসিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেন। এ সময় তাকে মাদ্রিদে ফিরিয়ে নিতে তার ব্যক্তিগত বিমানও প্রস্তুত ছিল।

 

রোনালদো তার বিবৃতিতে বলেন, 'জাতীয় দলের কোচের সংবাদ সম্মেলনের পর এবং পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতির সঙ্গে আলোচনার পর আমি জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।'

 

তিনি আরও বলেন, 'যথাসময়ে আমি পর্তুগিজদের জানাব, কী কারণে আমি সেই জাতীয় দল ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যার জন্য আমি সবসময় নিজেকে উৎসর্গ করেছি।'

 

বিবৃতির শেষে পর্তুগালের অধিনায়ক লেখেন, 'এখন পর্তুগাল এবং আমার সব সতীর্থকে, কোনো ব্যতিক্রম ছাড়াই, শুভকামনা জানানোর সঠিক সময়।'

 

এদিকে টানা তৃতীয় দিনের মতো পর্তুগালের অনুশীলনে অনুপস্থিত ছিলেন রোনালদো। এতে দলের ক্যাম্পের ভেতরের উত্তেজনা আরও বেড়েছে। কোচ জর্জ জেসুস কোপেনহেগেনে দলের অনুশীলনে রোনালদো অংশ নেবেন বলে নিশ্চিত করার মাত্র কয়েক মিনিট পরই এই ঘটনা ঘটে।

 

পর্তুগালের সংবাদপত্র অ্যা বোলা-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ডেনমার্কের রাজধানীতে পার্কেন স্টেডিয়াম থেকে পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের একটি গাড়িতে করে রোনালদো চলে যান। ঠিক সেই সময় ফ্রান্সিসকো কনসেইসাও ছাড়া তার অন্য সব সতীর্থ মাঠে প্রবেশ করছিলেন।

 

প্রি-ম্যাচ সংবাদ সম্মেলনের মাত্র কয়েক মিনিট পর রোনালদো স্টেডিয়াম ছাড়েন। ওই সংবাদ সম্মেলনে জর্জ জেসুস বলেছিলেন, ৪১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড অনুশীলন করবেন, তবে একই সঙ্গে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে তিনি মূল একাদশে নাও থাকতে পারেন।

 

জেসুস বলেন, 'গতকাল সে অনুশীলন করতে অস্বীকার করেনি। ফ্রান্সিসকো কনসেইসাও চোটের কারণে অনুশীলন করেনি এবং জোয়াও ফেলিক্সের ক্লান্তি কমানোর চেষ্টা করায় সেও অনুশীলন করেনি। অন্যদিকে ক্রিস্টিয়ানো জিমে কাজ করেছে। আজ সে অনুশীলন করবে। এটি চতুর্থ দিন, তাই সে অনুশীলন করবে।'

 

পর্তুগিজ কোচ রোনালদোর ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন এবং স্পষ্ট করে দেন যে দলের একাদশ নির্ধারণের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তারই।

 

তিনি বলেন, 'আমি যা চাই তা প্রতিশ্রুতি দিতে পারি। আমি কোচ। আমি খেলোয়াড়কে বলেছি যে সে ম্যাচটি শুরু করবে না এবং তাকে বেঞ্চে থাকতে হবে। যদি আমার তাকে ৩০ মিনিটের জন্য প্রয়োজন হয়, তাহলে সে খেলবে। আর যদি আমার তাকে প্রয়োজন না হয়, তাহলে সে খেলবে না। কোনো খেলোয়াড় আমার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারবে না, সে হোক রোনালদো কিংবা ফুটবলের অন্য কেউ। এমনকি কোনো সভাপতিও নয়। এটা কখনোই হবে না।'

পর্তুগালের ক্যাম্প ছেড়ে গেছেন বিক্ষুব্ধ রোনালদো, বিদায়ের গুঞ্জন | সময় নিউজ