আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:২৯

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
স্থানীয় সময় রোববার (৪ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যেন এই প্রযুক্তির উন্নয়নে নেতৃত্ব ধরে রাখতে পারে, তা নিশ্চিত করাই নতুন এই বাহিনীর লক্ষ্য। একইসঙ্গে এ বিষয়ে সরকারের সাথে জনগণের সম্পৃক্ততার বিষয়টি সমন্বয় করার দায়িত্বও থাকবে এসআইএফের।
এর আগে ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন ‘আর্টিফিশিয়াল’ (কৃত্রিম) শব্দটি শুনলে মনে হয় বিষয়টি ‘নকল’ বা ‘ভুয়া’। গত ২৯ সেপ্টেম্বর তিনি এআই-এর নাম পরিবর্তন করে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ রাখার বিষয়ে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছিলেন।
গত সপ্তাহে ট্রাম্প আরও জানিয়েছিলেন, শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা একটি ‘নৈতিকভাবে বাধ্যতামূলক’ চুক্তিতে স্বাক্ষর করার পর তিনি এআই-এর নিরাপত্তা তদারকির জন্য একটি বোর্ড গঠন করবেন।
ট্রাম্প লিখেছেন, সুপার ইন্টেলিজেন্স ফোর্স ভোক্তা, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী, ধর্মীয় সংগঠন, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সরবরাহকারী এবং সুপার ইন্টেলিজেন্স কোম্পানিগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের যোগাযোগ ও কার্যক্রম সমন্বয় করবে।
টাস্কফোর্সে আরও থাকবেন ফেডারেল ট্রেড কমিশনের (এফটিসি) চেয়ারম্যান অ্যান্ড্রু ফার্গুসন, প্রতিরক্ষা বিভাগের গবেষণা ও প্রকৌশলবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি এমিল মাইকেল এবং অফিস অব পারসোনেল ম্যানেজমেন্টের পরিচালক স্কট কুপর। টাস্কফোর্সটি সরাসরি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ সুজি ওয়াইলসের কাছে প্রতিবেদন দেবে।
টাস্কফোর্সের প্রধান ক্লেটন গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন। এর আগে এ পদে ট্রাম্পের প্রথম পছন্দ বিল পুল্টেকে আইনপ্রণেতারা প্রত্যাখ্যান করেন।
এআই সম্পর্কে ক্লেটন বলেছিলেন, যখন কোনো বিষয় একইসাথে সুযোগ এবং হুমকি—উভয়ই হয়ে ওঠে, তখন সেটিকে ভালোভাবে আয়ত্তে আনা বা নিয়ন্ত্রণ করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ।
ক্লেটন আগে নিউ ইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের মার্কিন অ্যাটর্নি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সে সময় তিনি ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক পাচার মামলাসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদারকি করেছেন।
ট্রাম্পের টাস্কফোর্স গঠনের ঘোষণা এমন সময়ে এলো, যখন প্রযুক্তি খাতের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা—বিশেষ করে ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকের নির্বাহীরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ওপর আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের জন্য চাপ বাড়াচ্ছেন।
৪ অক্টোবর প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান বলেন, এআইয়ের সুফল এর কিছু ঝুঁকি মেনে নেয়ার যৌক্তিকতা তৈরি করে। প্রযুক্তিটি সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত রাখা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পলিটিকোর প্রযুক্তিবিষয়ক নিউজলেটার ‘ডিকোডেড’-কে অল্টম্যান বলেন, ‘এই প্রযুক্তির সুফল এবং মানুষের নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেয়ার স্বাধীনতার জন্য কিছু খারাপ ঘটনা ঘটার ঝুঁকিও বিশ্বের মেনে নেয়া উচিত।’
যদিও এআইয়ের ওপর কঠোর নজরদারির আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছেন ট্রাম্প। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকেই অনেকাংশে নিজেদের নিয়ন্ত্রণের সুযোগ দিয়েছেন তিনি।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর স্বাক্ষরিত ওই চুক্তিতে ওপেনএআই, অ্যানথ্রপিক, স্পেসএক্স ও গুগলের মতো শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীদের স্বাক্ষর রয়েছে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি

