বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:৩০

গাজায় যুদ্ধের ভয়াবহতা এবার স্পষ্ট হয়ে উঠেছে স্যাটেলাইট ছবিতেও। যুদ্ধের আগে ও পরের গাজার চিত্র পাশাপাশি তুলে ধরে সেখানকার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন হলিউড অভিনেত্রী ও মানবিক সহায়তাকর্মী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। শীত আসার আগেই গাজার মানুষের জন্য জরুরি আশ্রয় ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (৩ অক্টোবর) নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে গুগল আর্থের কয়েকটি স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ করেন জোলি। ছবিগুলোতে যুদ্ধের আগে গাজার বিভিন্ন এলাকার যে চিত্র ছিল, তার সঙ্গে বর্তমান ধ্বংসস্তূপের দৃশ্য তুলনা করে দেখানো হয়েছে।
পোস্টে জোলি লেখেন, ‘এখন গুগল আর্থ খুললেই দেখা যাচ্ছে গাজায় কী করা হয়েছে। পুরো জনপদ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।’
গাজার অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কথাও তুলে ধরেন এই অভিনেত্রী। তার ভাষায়, ঘরবাড়ি, স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল, সড়ক, পানি ও পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থাসহ মানুষের স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে।
জোলি বলেন, গাজার মানুষের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠছে। বিশেষ করে শীত মৌসুম সামনে রেখে বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য জরুরি আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি গাজার মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এবং দ্রুত মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান।
দীর্ঘদিন ধরেই মানবিক সংকট ও বাস্তুচ্যুত মানুষের অধিকার নিয়ে সোচ্চার অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের শুভেচ্ছাদূত হিসেবেও দীর্ঘ সময় কাজ করেছেন তিনি। গাজা নিয়ে তাঁর সাম্প্রতিক এই পোস্ট আবারও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সেখানকার মানবিক পরিস্থিতির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
ফিলিস্তিনিদের দুর্দশা নিয়ে আগেও সরব হয়েছেন জোলি। চলতি বছরের জানুয়ারিতে মিসর সফর করেন তিনি। পরিদর্শন করেন রাফাহ সীমান্তের মিসরীয় অংশ। সেখানে মিসরের রেড ক্রিসেন্টের কর্মী ও বিভিন্ন মানবিক সহায়তা সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করেন জোলি। ঘুরে দেখেন ত্রাণগুদাম।
দুই দশকের বেশি সময় ধরে শরণার্থী ও সংঘাতে বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য কাজ করেছেন জোলি। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার শুভেচ্ছাদূত ছিলেন তিনি। পরে বিশেষ দূতের দায়িত্বও পালন করেন। ২০২২ সালে ওই দায়িত্ব ছাড়েন জোলি।
২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরায়েলে হামাসের হামলার নিন্দা জানান তিনি। পরে গাজাকে ‘খোলা আকাশের কারাগার’ বলেও মন্তব্য করেন জোলি।

