খুলনা ব্যুরো
প্রকাশ: ৬ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:২৩

সুন্দরবন ঘেঁষে গড়ে ওঠা অনুমোদনহীন ১৮টি রিসোর্টের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে পরিবেশ অধিদফতর। এর মধ্যে ১০টি প্রতিষ্ঠানকে ৩০ দিনের মধ্যে এবং বাকি আটটিকে ১৫ দিনের মধ্যে সব স্থাপনা সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে পরিবেশ অধিদফতরের খুলনা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. হারুন-অর-রশীদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, রোববার (৪ অক্টোবর) রিসোর্ট মালিকদের লিখিতভাবে এ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। নির্দেশ না মানলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন ও নিয়মিত মামলাসহ পরিবেশ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার কথা চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
রিসোর্টগুলো হলো: অরণ্যছায়া, অরণ্যবাড়ী, কেওড়াবন, মায়াবন, গহন, দ্য ফরেস্ট রিট্রিট, নিকুঞ্জ ভ্যালি, লা সিলভা কটেজ, বনবিবি, সুন্দরী, ইরাবতী, বনমালী, গোলকানন, পিয়ালী, ম্যানগ্রোভ, জঙ্গলবাড়ী, বনবাস ও বনলতা ইকো কটেজ।
অভিযোগ রয়েছে, সুন্দরবনের চারপাশে পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় অনুমোদন ছাড়াই একের পর এক রিসোর্ট নির্মাণ ও পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি বনে ও খালে পর্যটকদের অবৈধ চলাচল এবং ডলফিনের অভয়ারণ্য ঘোষিত ঢাংমারী খাল দিয়ে পর্যটকবাহী ট্রলারের অবাধ যাতায়াত সুন্দরবনের পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এসব বিষয় সামনে আসার পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় রিসোর্টগুলো বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
মো. হারুন-অর-রশীদ জানান, ঢাংমারী, কৈলাসগঞ্জ ও বাণিশান্তা এলাকায় থাকা ১৮টি রিসোর্ট তাদের কার্যালয়ের আওতাধীন। তাই প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে পরিবেশ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, অনুমোদন ছাড়া নির্মাণ করায় আগে ১০টি রিসোর্টকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানগুলো নোটিশের জবাবের পাশাপাশি অনুমোদন চেয়ে আবেদন করলেও চাহিদামতো কাগজপত্র দিতে পারেনি। এ কারণে ৩০ সেপ্টেম্বর তাদের আবেদন বাতিল করা হয়। পরে কার্যক্রম বন্ধ এবং ৩০ দিনের মধ্যে স্থাপনা অপসারণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
নতুন গড়ে ওঠা আটটি রিসোর্টকে ৩০ সেপ্টেম্বর সাত দিনের মধ্যে গ্রহণযোগ্য স্থানে স্থানান্তরের নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। তবে দৃশ্যমান পদক্ষেপ না থাকায় তাদের সাত দিনের মধ্যে কার্যক্রম বন্ধ এবং ১৫ দিনের মধ্যে স্থাপনা সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে।

