প্রতিবেদক, পঞ্চগড়
প্রকাশ: ৫ অক্টোবর ২০২৬, ২১:৩২

পঞ্চগড় সদর উপজেলায় শিক্ষক দিবসে ফুলের শুভেচ্ছা নেয়ার কিছুক্ষণ পরেই- নুর আজম (৬৫) নামে এক প্রধান শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সকালে পঞ্চগড় সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের মীরগড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে এ ঘটনা ঘটে।
শিক্ষক দিবসে শিক্ষার্থীদের ভালোবাসায় সিক্ত হওয়ার কিছুক্ষণ পরই আকস্মিক মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন মীরগড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুর আজম।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো সোমবার সকাল ৯টার আগেই বিদ্যালয়ে পৌঁছান প্রধান শিক্ষক নুর আজম। শিক্ষক দিবস উপলক্ষে শিক্ষার্থীরা তাঁকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায়। হাসিমুখে শিক্ষার্থীদের দেওয়া ফুল গ্রহণ করে তিনি সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষে চলে গেলে বিদ্যালয়ের পাশের একটি দোকানে চা খেতে যান নুর আজম। সেখানে হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি।
বিদ্যালয়ের অফিস সহায়ক তাঁকে দ্রুত একটি ইজিবাইকে করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। খবর পেয়ে সহকর্মীরাও হাসপাতালে ছুটে যান। তবে জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
সহকারী শিক্ষক শাহাজুল ইসলাম বলেন, সকালে স্যার বিদ্যালয়ে আসার পর শিক্ষার্থীরা শিক্ষক দিবস উপলক্ষে তাঁকে ফুল দেয়। এরপর আমরা শ্রেণিকক্ষে চলে যাই। সকাল ১০টা ২০ মিনিটের দিকে খবর পাই, পাশের দোকানে চা খেতে গিয়ে স্যার হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করেছেন। তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালে গিয়ে দেখি স্যার আর নেই। চোখের সামনে সকালে তাঁকে স্কুলে আসতে দেখলাম, অথচ কিছুক্ষণের মধ্যেই এভাবে চলে গেলেন, এটা বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে।
সহকারী শিক্ষক আতাউর রহমান বলেন, নুর আজম স্যার আমাদের অত্যন্ত প্রিয় সহকর্মী ছিলেন। সকালে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফুল পাওয়ার কথা তিনি হাসিমুখে আমাদের জানিয়েছিলেন। কিছুক্ষণ পরই অসুস্থ হয়ে পড়েন। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাঁর রক্তচাপ পাচ্ছিলেন না। পরে ইসিজি করে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। স্যার আগে থেকেই ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভুগছিলেন।
পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের চিকিৎসক মোখলেসুর রহমান জানান, নুর আজমকে হাসপাতালে আনার পর তাঁর রক্তচাপ পাওয়া যাচ্ছিল না। শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক করতে বুকে চাপ দেওয়াসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরে ইসিজির মাধ্যমে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
জানা গেছে, শিক্ষক নুর আজম মীরগড় এলাকার বাসিন্দা। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। বিভিন্ন বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার পর ২০১২ সালে মীরগড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন তিনি।
প্রিয় শিক্ষকের আকস্মিক মৃত্যুতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শিক্ষক দিবসের দিনেই এমন ঘটনায় শোকাহত সহকর্মীরা। সোমবার রাত ৯টার দিকে মীরগড় এলাকায় জানাজা শেষে পারিবারিক গোরস্থানে নুর আজমকে দাফন করার কথা রয়েছে।

