প্রতিবেদক, সুনামগঞ্জ
প্রকাশ: ৫ অক্টোবর ২০২৬, ২২:৫০

খেলা আয়োজনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কয়েকজনের আপত্তির পরিপ্রেক্ষিতে ম্যাচটি স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজক ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা। তবে খেলার অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়ে আয়োজক ও প্রশাসনের বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, রোববার রাতে দিরাই পৌর এলাকার চণ্ডীপুরের বাসিন্দা মাওলানা শরিফ উদ্দিনসহ কয়েকজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সনজীব সরকারের সঙ্গে দেখা করে মেয়েদের ফুটবল ম্যাচ আয়োজনের বিষয়ে আপত্তি জানান। তাদের দাবি, বাইরে থেকে মেয়েদের এনে স্টেডিয়ামে খেলাধুলার আয়োজন করা হলে ‘অশ্লীলতা’ হতে পারে। আয়োজকরা বলেন, স্বপ্নচূড়া স্পোর্টিং ক্লাবটি ২০১৯ সালে যাত্রা শুরু করে। এলাকার কিশোরীদের নিয়েই এই দল। ২০১৯ সালে এই দলের আমন্ত্রণে দেশের সাতটি জেলার মেয়েদের সাতটি ফুটবল দল দিরাইয়ে এসে খেলে গেছে। স্বপ্নচূড়ার মেয়েরাও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গিয়ে খেলেছে। জাতীয়ভাবেও তারা বিভিন্ন খেলায় অংশ নিয়েছে। এখন হঠাৎ করে খেলায় বাধা আসায় তিনি বিস্মিত। আয়োজক সংগঠন স্বপ্নচূড়া স্পোর্টিং ক্লাবের সভাপতি ও কোচ রাকিব আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, খেলা আয়োজনের অনুমতি চেয়ে পাঁচ দিন আগেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছিল। তাদের কাছে ওই আবেদনের রিসিভ কপিও রয়েছে বলে জানান তিনি।
রাকিব আহমেদ বলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার রোববার রাতে জানান, মেয়েদের খেলা নিয়ে কয়েকজন আপত্তি জানিয়েছেন। খেলতে হলে তাদের সঙ্গে সমঝোতা করতে হবে। তিনি আরও বলেন, সোমবার দুপুরে দিরাই সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হুমায়ুন কবির ফোন করে মাঠের আশপাশে না যেতে বলেছেন। এভাবে কঠোরভাবে নিষেধ করার পর আমরা খেলা স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছি। ম্যাচ আয়োজনের বিরোধিতাকারী মাওলানা শরিফ উদ্দিন নিজেকে ‘দিরাইয়ে ইসলামবিরোধী কার্যকলাপ প্রতিরোধ কমিটি’ এর সভাপতি দাবি করে বলেন, মহিলাদের নিয়ে মাঠে নাচানাচি, অশ্লীলতা হবে, এটা আমরা মানতে পারি না। বাইরে থেকে মেয়েদের এনে খেলাধুলা করানো হবে, এটিও আমরা মানব না। এমন খেলা যুবকরা দেখলে তাদের চরিত্র নষ্ট হবে।
অন্যদিকে আয়োজকদের দাবি, এটি ছিল একটি সাধারণ প্রীতি ফুটবল ম্যাচ। মেয়েদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করা এবং তাদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি করতেই ম্যাচটির আয়োজন করা হয়েছিল।
এ বিষয়ে দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সনজীব সরকার বলেন, খেলার আয়োজকরাই ম্যাচটি স্থগিত করেছেন। রোববার রাতে মহিলা প্রীতি ম্যাচের বিষয়ে মাইকিং করার পর আশপাশের কয়েকটি মাদ্রাসার দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তারা বাইরে থেকে মহিলা এনে খেলাধুলা করানোর বিষয়ে আপত্তি জানান। পরে আমি তাদের নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করতে বলেছিলাম।
অন্যদিকে দিরাই সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হুমায়ুন কবির বলেন, স্থানীয়দের মধ্যে খেলা নিয়ে মতবিরোধের বিষয়টি জানতে পেরে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জানতে চেয়েছিলেন, খেলার কোনো অনুমতি নেওয়া হয়েছে কি না। ইউএনও তাকে জানিয়েছেন, কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। এরপর তিনি আয়োজকদের ফোন করে খেলাটি পরে আয়োজন করতে বলেছেন।

