আন্তর্জাতিক

ইয়েমেনের কিছু এলাকায় তীব্র খাদ্য সংকট, প্রতি চার পরিবারের তিনটিই ক্ষুধার শিকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৪:৩০

ইয়েমেনের কিছু এলাকায় তীব্র খাদ্য সংকট, প্রতি চার পরিবারের তিনটিই ক্ষুধার শিকার

ইয়েমেনে চলমান সংঘাতের মধ্যে কিছু এলাকায় ভয়াবহ খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। সরকার নিয়ন্ত্রিত এসব এলাকায় প্রতি চারটি পরিবারের প্রায় তিনটিই এখন নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য চাহিদা পূরণ করতে পারছে না। অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে তাদের। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) জানিয়েছে, চলতি বছরে এ হার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। আল জাজিরা।

 

শুক্রবার (২ অক্টোবর) ডব্লিউএফপি জানায়, ইয়েমেনের সরকার নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ৭৪ শতাংশ পরিবার তাদের মৌলিক খাদ্য চাহিদা মেটাতে পারছে না। এসব এলাকায় আনুমানিক এক কোটি মানুষের বসবাস।

 

সংস্থাটি বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরব-সমর্থিত সরকারি বাহিনী এবং ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠীর মধ্যে লড়াই তীব্র হওয়ায় হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। একই সঙ্গে খাদ্য সরবরাহ ও বাজারব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে এবং মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগও সংকুচিত হয়েছে।

 

ইয়েমেন তার খাদ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ আমদানি করে। ফলে সংঘাতের কারণে বন্দর, বাজার ও সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় খাদ্য নিরাপত্তার ওপর দ্রুত বড় ধরনের চাপ তৈরি হচ্ছে।

 

ডব্লিউএফপির কর্মসূচি পরিচালনা বিভাগের সহকারী নির্বাহী পরিচালক ম্যাথিউ হলিংওয়ার্থ বলেন, সাম্প্রতিক সংঘাতের বিস্তার খাদ্য নিরাপত্তার জন্য ‘ভয়াবহ বিপর্যয়’ ডেকে আনতে পারে। রোম থেকে ভিডিও লিংকের মাধ্যমে জেনেভায় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, সংঘাত যত দীর্ঘ হবে, ক্ষুধার সংকটও তত বাড়তে থাকবে।

 

গত মাসে হুথি বাহিনী আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের একটি বড় অংশ দখল করে নেয় বলে ডব্লিউএফপি জানিয়েছে। দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী এডেনভিত্তিক।

 

সংঘাত থেকে পালিয়ে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো এডেন ও তাইজের আশপাশে এসে পৌঁছাচ্ছে। অনেক পরিবার খাবার ও পানি ছাড়াই ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে এসেছে বলে জানিয়েছে ডব্লিউএফপি।

 

তহবিল সংকট

 

সংঘাতের কারণে বাস্তুচ্যুত ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য জরুরি সহায়তা বাড়িয়ে ১৫ লাখ মানুষের কাছে পৌঁছানোর পরিকল্পনা করেছে ডব্লিউএফপি। তবে এ কার্যক্রম চালাতে সংস্থাটির অতিরিক্ত ১০ কোটি ৯০ লাখ ডলার প্রয়োজন।

 

অর্থের সংকটের কারণে নভেম্বর মাসে পরিকল্পিত খাদ্য বিতরণ কর্মসূচি থেকেও অর্থ সরিয়ে নিতে হয়েছে। দ্রুত নতুন অর্থ না পাওয়া গেলে এক মাসের মধ্যেই বাস্তুচ্যুত ও ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের খাদ্য সহায়তায় ঘাটতি তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।

 

ডব্লিউএফপির হিসাবে, পুরো ইয়েমেনে ১ কোটি ৮৩ লাখ মানুষ বর্তমানে তীব্র খাদ্য অনিরাপত্তার মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় ২২ লাখ শিশু তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে।

 

বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি

 

২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে সীমান্তপারের হামলা অনেকটাই কমে এসেছিল। সাম্প্রতিক সংঘাতকে সেই সময়ের পর দুই পক্ষের মধ্যে সবচেয়ে বড় ধরনের উত্তেজনা হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে।

 

এই লড়াই ইয়েমেনের নিয়ন্ত্রণের চিত্র বদলে দিতে পারে এবং লোহিত সাগরের নৌপথেও আরও বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

হলিংওয়ার্থ সতর্ক করে বলেন, হুথি নিয়ন্ত্রিত বাব আল-মানদেব প্রণালি এবং ইরান ও উপসাগরীয় অঞ্চলের মধ্যবর্তী হরমুজ প্রণালিতে চলাচল ব্যাহত হলে বিশ্বজুড়ে খাদ্য ও জ্বালানির দাম বেড়ে যেতে পারে।

 

তবে এর প্রভাব ইতোমধ্যে দৃশ্যমান। ডব্লিউএফপি জানিয়েছে, সংঘাত থেকে পালিয়ে সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ বাব আল-মানদেব প্রণালি পেরিয়ে জিবুতিতে পৌঁছেছে ৩ হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষ।

 

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) তথ্য অনুযায়ী, ইয়েমেনে সংঘাতের কারণে এ পর্যন্ত ১ লাখ ৪৯ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। তাদের অনেকেই একাধিকবার ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছে।

ইয়েমেনের কিছু এলাকায় তীব্র খাদ্য সংকট, প্রতি চার পরিবারের তিনটিই ক্ষুধার শিকার | সময় নিউজ