আন্তর্জাতিক

হামাসের সব বেসামরিক জিম্মি মুক্তির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন নেতানিয়াহু: রিপোর্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ৩ অক্টোবর ২০২৬, ২০:৪৭

হামাসের সব বেসামরিক জিম্মি মুক্তির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন নেতানিয়াহু: রিপোর্ট

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হামাসের দেওয়া সব বেসামরিক জিম্মিকে মুক্তি দেওয়ার একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন বলে নতুন করে বেশ কিছু প্রতিবেদন সামনে এসেছে। 

 

প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরাইল থেকে হামাসের হাতে আটক হওয়া সব বেসামরিক জিম্মিকে মুক্তির বিষয়ে প্রস্তাব দিয়েছিল হামাস। তবে নেতানিয়াহু সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।

 

জাতীয় নির্বাচনের এক মাসেরও কম সময় আগে নেতানিয়াহুর ওই সময়কার কর্মকাণ্ড নতুন করে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

 

‘আরও এক বছর আগেই সব জিম্মিকে ফেরানো সম্ভব ছিল’: সাবেক ইসরাইলি জেনারেল

 

গাজা যুদ্ধ শুরুর সময় জিম্মি মুক্তির আলোচনায় ইসরাইলি সেনাবাহিনীর প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্বে থাকা সাবেক এক জেনারেল বলেছেন, সব ইসরাইলি জিম্মিকে ফিরিয়ে আনার চুক্তি ২০২৫ সালের অক্টোবরের অনেক আগেই করা সম্ভব ছিল। কিন্তু অপ্রয়োজনীয়ভাবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করা হয়েছে।

 

শুক্রবার (২ অক্টোবর) ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউট ফর নিয়ার ইস্ট পলিসির এক আলোচনায় মেজর জেনারেল নিটজান অ্যালন বলেন, যুদ্ধের অন্যান্য কৌশলগত লক্ষ্য বড় ধরনের ক্ষতি ছাড়াই হয়তো এক বছর আগেই জিম্মি মুক্তির চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব ছিল।

 

হামাসের ইসরাইলে হামলার তিন বছর পূর্তি উপলক্ষে ওই আলোচনা আয়োজন করা হয়। মেজর নিটজান বলেন, ‘আমরা আসলে সুযোগটি হারিয়েছি। যুদ্ধ অনেক দীর্ঘ হয়েছে।’

 

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলে হামাসের ওই হামলার পর গাজায় ইসরাইলের গণহত্যামূলক যুদ্ধ শুরু হয়। যা এখনও কার্যত অব্যাহত রয়েছে। এতে এখন পর্যন্ত ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

 

আল জাজিরার প্রতিবেদন মতে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ‘পূর্ণ বিজয়’ অর্জনের আগে কোনো চুক্তি করা সম্ভব নয় বলে যে দাবি করেছিলেন, সেটাকে ‘মিথ্যা’ বলে মন্তব্য করেন অ্যালন।

 

২০২৫ সালের অক্টোবরের যুদ্ধবিরতিকে এই সামরিক কর্মকর্তা ‘কৌশলগত অর্জন’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য, এর পর থেকে হামাসের সামরিক সক্ষমতা কমেছে। তবে যুদ্ধবিরতি আরও আগেই কার্যকর করা সম্ভব ছিল। সে ক্ষেত্রে বন্দিদশায় নিহত কিছু জিম্মিকেও হয়তো জীবিত অবস্থায় ফিরিয়ে আনা যেত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

 

২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় ইসরায়েল ও হামাস বন্দিবিনিময় করে। ওই চুক্তিতে ইসরাইলি কারাগারে থাকা প্রায় ২ হাজার ফিলিস্তিনি এবং গাজায় আটক ২০ ইসরাইলি জিম্মিকে মুক্তি দেওয়া হয়।

 

অ্যালন বলেন, ‘আমরা পারতাম এবং আমাদের যুদ্ধটি সংক্ষিপ্ত করা উচিত ছিল, সব জিম্মিকে হয়তো এক বছর আগেই ফিরিয়ে আনা উচিত ছিল। এরপর সামনে এগিয়ে গিয়ে হয়তো দুই পক্ষের হাজার হাজার মানুষের জীবন বাঁচানো সম্ভব হতো।’

 

এর আগে চলতি বছরের জুলাই মাসেও একই ধরনের মন্তব্য করেছিলেন অ্যালন। সে সময় তিনি ইসরাইলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচের সমালোচনা করে বলেছিলেন, বিভিন্ন পর্যায়ে প্রস্তাবিত কয়েকটি চুক্তির বিরোধিতা করেছিলেন স্মোটরিচ। ফলে সব জিম্মিকে ফিরিয়ে আনার কৃতিত্ব তিনি নিতে পারেন না।

 

‘শুধু হারানো সুযোগ নয়, এটা মর্মান্তিক’

 

শুক্রবার আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাবেক ইসরাইলি কূটনীতিক অ্যালান পিনকাসও বলেন, নেতানিয়াহু যুদ্ধের অবসান বিলম্বিত করেছেন।

 

তিনি বলেন, ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের হামলার পরপরই একটি চুক্তি করা সম্ভব ছিল। কিন্তু জিম্মিদের ফিরিয়ে আনতে প্রায় দুই বছর লেগেছে। তাই এটি শুধু একটি হারানো সুযোগ নয়, বরং মর্মান্তিক ঘটনা।

 

এর আগে চলতি সপ্তাহে কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন জাসিম আল থানি বলেন, হামাসের পক্ষ থেকে সব জিম্মিকে মুক্তির বিনিময়ে সীমিত সময়ের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেওয়া হলেও ইসরাইলি কর্মকর্তারা সেটি আলোচনায় নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন।

 

পিয়ার্স মরগানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ মোহাম্মদ বলেন, হামলার প্রথম দিনই কাতার ইসরাইলি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। হামাসের বার্তা ছিল, বেসামরিক জিম্মিদের বের করে নেওয়ার জন্য তারা স্বল্প সময়ের যুদ্ধবিরতি চায়। কিন্তু ইসরাইলিরা এ বিষয়ে আলোচনায় আগ্রহ দেখায়নি বলে দাবি করেন তিনি।

 

ইসরাইলের ২৭ অক্টোবরের সংসদ নির্বাচনের এক মাসেরও কম সময় আগে অ্যালনের নতুন মন্তব্য সামনে এলো। নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহুর সরকারকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই এ বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

 

সাবেক কূটনীতিক পিনকাস অবশ্য মনে করেন, অ্যালনের মন্তব্য নির্বাচনের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলবে না। তার মতে, নেতানিয়াহু সরকারের বিরুদ্ধে হামাসের হামলা ঠেকাতে ব্যর্থতার কারণে জনগণের ক্ষোভ ইতোমধ্যে বিভিন্ন জরিপে প্রতিফলিত হচ্ছে।

 

এদিকে গত মাসে ইসরাইলি সংবাদপত্র হারেৎজের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে নেতানিয়াহুকে সতর্ক করেছিলেন। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর ইসরাইলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

 

তবে নেতানিয়াহু ওই প্রতিবেদনকে ‘মনগড়া’ ও ‘মিথ্যা’ বলে অভিহিত করে সংবাদপত্রটির বিরুদ্ধে মামলা করার কথা জানান।

হামাসের সব বেসামরিক জিম্মি মুক্তির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন নেতানিয়াহু: রিপোর্ট | সময় নিউজ