রংপুর ব্যুরো
প্রকাশ: ৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:৩৩

সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে বিদ্যালয়ে দুধ পানের ঘটনা ঘটলেও, বিকেল থেকে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হলে পরিবারের সদস্যরা একে একে তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়।
জানা গেছে- মাথা ঘোরা, পেট ব্যথাসহ নানা উপসর্গ দেখা দেয় শিশু শিক্ষার্থীদের। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ স্কুল ফিডিংয়ের দুধ পান করার পরেই অসুস্থ হয়ে পড়ে এই শিক্ষার্থীরা।
দ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, সোমবার দুপুরে বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের দুধ বিতরণের সময় রংপুর ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রডাক্টস লিমিটেডের আরডি নামের প্যাকেটজাত দুধের কয়েকটি প্যাকেটে ফুটো দেখতে পান। এছাড়া কিছু প্যাকেটের দুধ দইয়ের মতো আকার ধারণ করায় শিক্ষকরা বিষয়টি প্রধান শিক্ষক ও স্কুল ফিডিংয়ের দায়িত্বে থাকা ওই কোম্পানির কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেনকে জানান এবং হোয়াটসঅ্যাপে ছবি পাঠিয়ে দেন। খবর পেয়ে স্কুলে এসে মনোয়ার হোসেন নিজে দুধ খেয়ে পরীক্ষা করে দুধে কোনো সমস্যা নেই বলে জানান এবং সব শিক্ষার্থীকে দুধ খেতে বলেন। পরে শিক্ষার্থীরা দুধ খাওয়ার পর থেকে কয়েকজন শিশু শিক্ষার্থী পেট ব্যথা, খিচুনি, মাথা ঘোরাসহ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। রাত ৭টা পর্যন্ত প্রায় ১৯ জনের মত শিশু শিক্ষার্থী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছাত্র মনির হোসেন বলেন, দুধ খাওয়ার পর থেকে আমার মাথা ও পেট ব্যথা শুরু হয়। আমি দাঁড়িয়ে থাকতে পারছিলাম না। পরে আমাকে হাসপাতালে আনেন।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক তসলিমা খাতুন বলেন, আমরা দুধ বিতরণের সময়েই দুধের প্যাকেটে ফুটো ও দইয়ের মতো চিত্র দেখতে পেয়ে প্রধান শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে জানাই। একই সাথে দুধ বিতরণ না করার জন্য বলি। তবে স্কুল ফিডিংয়ের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেন স্কুলে এসে তিনি নিজে দুধ খেয়ে সবাইকে খেতে বলেন। তারপরেই ছাত্রছাত্রীরা অসুস্থ হয়ে পড়তে থাকে। পরে আমরা তাদের হাসপাতালে ভর্তি করি।
এ বিষয়ে পঞ্চগড় সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান বলেন, প্রথমে একজন শিশু শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এর পর অপর শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা এক এক করে বাকিদের চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে। রাত ৭টা পর্যন্ত প্রায় ১৯ জনের মত শিক্ষার্থী হাসপাতালে এসেছে। আমরা তাদের চিকিৎসা দিচ্ছি। তাদের অবস্থা স্থিতিশীল। অনেকেই ভালো আছেন। আমরা তাদের পর্যবেক্ষণে রেখেছি- মূলত অনেক শিক্ষার্থী ভয় পেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। তবে দুধ খেয়ে অসুস্থ হয়েছে কি না তা এখনই বলা যাচ্ছে না, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইন্দ্রজিত সাহা বলেন, বিষয়টি জানার পর আমি হাসপাতালে গিয়েছি এবং তাদের গুরুত্বে সাথে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি দুধ পরীক্ষা করার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। একই সাথে বিষয়টি তদন্তে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হচ্ছে।

