অর্থ-বাণিজ্য

রফতানি আয় বাড়লেও স্বস্তি নেই পোশাক খাতে, বড় বাধা জ্বালানি সংকট

কমল দে

প্রকাশ: ৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৫

রফতানি আয় বাড়লেও স্বস্তি নেই পোশাক খাতে, বড় বাধা জ্বালানি সংকট

পোশাক কারখানায় কাজ করছেন কর্মীরা। ছবি: সময় সংবাদ

বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দার পাশাপাশি আমদানিকারক দেশগুলোতে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসেই বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের রফতানি আয় সাড়ে ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে ৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধিতে রফতানি আয় এসেছে ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি। তবে বায়ারদের সঙ্গে দর কষাকষির মাধ্যমে রফতানি বাড়াতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহের বিকল্প দেখছেন না ব্যবসায়ীরা।


৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা সামনে রেখে এগিয়ে চলা দেশের তৈরি পোশাক শিল্প চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসেই আয় করেছে ১০ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে সদ্য বিদায়ী সেপ্টেম্বর মাসে ৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধিতে রফতানি আয় এসেছে ৩ দশমিক ০৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। অবশ্য আগস্ট মাসে এই আয় ছিল ১৩ দশমিক ৯২ শতাংশ প্রবৃদ্ধিতে ৩ দশমিক ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।


বিজিএমইর পরিচালক রাকিবুল আলম চৌধুরী বলেন, ‘গ্যাসের সংকট কাটিয়ে তুলতে হবে। বিদ্যুৎ সরবরাহে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা থাকা যাবে না। পাশাপাশি এনবিআরের বিভিন্ন জটিলতা, বিশেষ করে কাস্টমসসংক্রান্ত বিষয়গুলোও পুরোপুরি হয়রানিমুক্ত করতে হবে।’


বছরের অন্যান্য সময়ের মতো এই প্রান্তিকেও তৈরি পোশাকের ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে নীট পণ্য। সেপ্টেম্বর মাসে ১ দশমিক ৩১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের ওভেন পণ্যের বিপরীতে নীটওয়্যার রফতানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এছাড়া গত তিন মাসে নীটওয়্যার খাত থেকেই রফতানি আয় এসেছে ৫ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।


বিকেএমইএর পরিচালক ফৌজুল ইমরান খান বলেন, ‘আমরা যে মূল সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছি, সেটি হলো জ্বালানি সংকট। স্পিনিং, স্পিনিং ও ডাইং মিলগুলো পর্যাপ্ত গ্যাস না পেলে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে প্রয়োজন অনুযায়ী উৎপাদন করতে পারছি না।’


এদিকে, বড় বড় শিল্পগ্রুপগুলো যেমন সরাসরি বায়ারদের কাছ থেকে অর্ডার নিয়ে দেশের রফতানি আয়ে ভূমিকা রাখছে, তেমনি আয়ের ক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই সাব-কন্ট্রাকে কাজ করা ছোট গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানগুলোও। এসব গার্মেন্টস কারখানাকে নীতিমালার মাধ্যমে নীতি সহায়তা দেয়া হলে উৎপাদন আরও বাড়বে বলে মনে করেন ব্যবসায়ী নেতারা।


বিজিএমইএর পরিচালক সাইফুল্লাহ মনসুর বলেন, ‘সরকার যদি নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারে এবং ছোট কারখানাগুলো, বিশেষ করে এসএমইগুলোকে দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী এসএমই নীতিমালার মাধ্যমে সহায়তা করতে পারে, তাহলে আমাদের ৫০ বিলিয়ন ডলারের রফতানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়।’


২০২৬-২৭ অর্থবছরের আগস্ট মাস থেকে শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক পোশাক বাণিজ্যের প্রি-স্প্রিং ও স্প্রিং মৌসুমের অর্ডার। সবচেয়ে বড় এই মৌসুমের অর্ডার, উৎপাদন ও শিপমেন্ট চলবে ডিসেম্বর পর্যন্ত। তাই অর্ডার অনুযায়ী বিদেশি বায়ারদের কাছে পৌঁছানো হচ্ছে জ্যাকেট, প্যান্ট ও শট এবং লং ট্রাউজার, জগিং স্যুট, লং প্যান্ট, লং স্লিভ টি-শার্ট, উইন্ডব্রেকার ও হুডির মতো কিছুটা কম মূল্যের পোশাক।


ক্লিফটন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির বিল থেকে শুরু করে অবকাঠামো এবং পরিবহন খরচ; সবকিছুর ব্যয়ই এরই মধ্যে বেড়ে গেছে। এসব খরচ হিসাব করেই পণ্যের দাম নির্ধারণ করতে হয়। ফলে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেলে স্বাভাবিকভাবেই পণ্যের দামও বেড়ে যায়। তখন দেখা যাচ্ছে, ক্রেতারা অন্য দেশ থেকে আমাদের তুলনায় কম দামে পণ্য কিনতে পারছেন এবং সেখানেই অর্ডার দিচ্ছেন।’


বছরে ৪০ থেকে ৪২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রফতানি আয় আসছে দেশের সবচেয়ে বড় রফতানি খাত গার্মেন্টস শিল্প থেকে। আর এ খাতের কয়েক হাজার কারখানায় সরাসরি শ্রমিক রয়েছেন ২৫ লাখের বেশি।

রফতানি আয় বাড়লেও স্বস্তি নেই পোশাক খাতে, বড় বাধা জ্বালানি সংকট | সময় নিউজ