অর্থ-বাণিজ্য

অদৃশ্য জটিলতায় থমকে শাহ আমানতের কার্গো সার্ভিস চালুর প্রক্রিয়া

কমল দে

প্রকাশ: ৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৯

অদৃশ্য জটিলতায় থমকে শাহ আমানতের কার্গো সার্ভিস চালুর প্রক্রিয়া

সম্ভাবনা থাকলেও অদৃশ্য জটিলতায় আটকে আছে চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দর থেকে কার্গো সার্ভিস চালুর প্রক্রিয়া। এখনও জরুরি পণ্য রফতানি কিংবা আমদানি করা কাঁচামাল ছাড় করাতে ব্যবসায়ীদের ছুটতে হচ্ছে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। অথচ তৈরি পোশাকসহ নানা শিল্পকারখানার আধিক্যের কারণে ঢাকার বিকল্প হয়ে উঠতে পারে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর।


গত ১০ মাসের বেশি সময় ধরে পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে আছে চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ। নষ্ট হয়ে যাওয়া স্ক্যানার মেশিন সরিয়ে বসানো হয়েছে নতুন দুটি মেশিন। রয়েছে দুটি ওয়েট মেশিনও। রফতানি পণ্য রাখার জন্য খালি করে রাখা হয়েছে দুটি সুরক্ষিত ওয়্যারহাউজ।


এর মধ্যে ১৭ হাজার বর্গফুটের আমদানি কার্গো ওয়্যারহাউজের ধারণক্ষমতা ১৪০ মেট্রিক টন। আর ২৫ হাজার বর্গফুটের রফতানি ওয়্যারহাউজের ধারণক্ষমতা ১১০ মেট্রিক টন। সব ধরনের প্রস্তুতি থাকলেও শুধু নেই কার্গো পরিবহনের বিমান।


চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট আমিরুল হক বলেন, ‘ঢাকায় কার্গো ভিলেজ পুড়ে যাওয়ার পর এখন চট্টগ্রামের কার্গো ভিলেজটি পুরোপুরি খালি পড়ে আছে। এই সক্ষমতাকে আমরা কাজে লাগাতে পারি। তিন বছরের জন্য যে ট্যারিফ কমানো হয়েছে, এর মাধ্যমে এয়ারলাইন্সগুলোকে এখানে আনা সম্ভব। আর এয়ারলাইন্স আনা মানেই তো ব্যবসার সুযোগ তৈরি হওয়া।’


২০০০ সালে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া এই বিমানবন্দর থেকে ২০০৫ সালে সীমিত পরিসরে রফতানি কার্গো পরিবহন শুরু হয়। চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দর থেকে ডেডিকেটেড কার্গো সার্ভিস না থাকলেও মূলত যাত্রীবাহী বিমানের মাধ্যমে কার্গো পরিবহন করছেন ব্যবসায়ীরা। দ্রুত চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে কার্গো সার্ভিস চালু করা হলে ব্যবসায়ীরা যেমন উপকৃত হবেন, তেমনি সমৃদ্ধ হবে দেশের অর্থনীতি।


গত বছরের ১৮ অক্টোবর ঢাকার হজরত শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরকে বিকল্প হিসেবে গড়ে তুলতে তোড়জোড় শুরু করেছিল সরকার। কিন্তু মাঝপথে এসে পুরো প্রক্রিয়া থমকে যায়।


সপ্তাহে অন্তত একটি করে হলেও কার্গো সার্ভিস চালুর জন্য বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থার সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন শাহ আমানত বিমানবন্দরের পরিচালক নিজেই। চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ নূর হোসেন বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে কার্গো ফ্লাইট পরিচালনার জন্য আমাদের যথেষ্ট সক্ষমতা রয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং মন্ত্রিপরিষদের সংশ্লিষ্টরাও চেষ্টা করছেন, যাতে অন্তত একটি কার্গো ফ্লাইট এখান থেকে পরিচালনা করা যায়। তবে শেষ পর্যন্ত বিষয়টি নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের ওপর; তারা এখান থেকে ফ্লাইট পরিচালনা করবে কি না এবং করলে তা কতটা লাভজনক হবে।’


বিগত ২০০৫ সাল থেকে এয়ার এমিরেটস ও ইত্তেহাদ শাহ আমানত বিমানবন্দরে আমদানির পাশাপাশি রফতানি কার্গো ফ্লাইট পরিচালনা করে আসছিল। তবে করোনা লকডাউনের সময় ২০২১ সালে তা বন্ধ হয়ে যায়। এ অবস্থায় জটিলতা এড়াতে রাজধানী ঢাকা ও বন্দরনগরী চট্টগ্রামের দুই বিমানবন্দরের মধ্যে সমন্বয় করে কার্গো পরিবহনের ব্যবস্থা করার মত ব্যবসায়ী নেতারা।


ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরামের চেয়ারম্যান এস এম আবু তৈয়ব বলেন, বাংলাদেশে কার্গো মূলত ঢাকার একমাত্র বিমানবন্দরেই আসে। বিভিন্ন কারণে একটি বিকল্প ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। যেমন-অগ্নিকাণ্ড, বন্যা, ঝড় বা অন্য কোনো দুর্যোগ হলে কার্গো পরিবহনে সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই চট্টগ্রামের যে কার্গো সুবিধা রয়েছে, সেটিকে দ্রুত কার্যকর করা দরকার। চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা ঢাকায় কার্গো ক্লিয়ার করে আবার চট্টগ্রামে নিয়ে আসছি না। এখন বরং ঢাকার ব্যবসায়ীরাই চট্টগ্রাম থেকে কার্গো ক্লিয়ার করে নিয়ে যেতে পারবেন। একইভাবে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে কার্গো ঢাকায় পাঠানোর প্রয়োজনও কমবে।


যাত্রীবাহী বিমানে কার্গো পরিবহনের মাধ্যমে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত ৬৭৬ মেট্রিক টন আমদানি এবং ২ হাজার ৪৭ মেট্রিক টন রফতানি কার্গো থেকে ২ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছে শাহ আমানত বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।

অদৃশ্য জটিলতায় থমকে শাহ আমানতের কার্গো সার্ভিস চালুর প্রক্রিয়া | সময় নিউজ