অর্থ-বাণিজ্য

আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা অডিটে বড় সাফল্য, বিদেশি এয়ারলাইন্স-পর্যটক বাড়ার আশা

কাজল আব্দুল্লাহ

প্রকাশ: ৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪২

এভিয়েশনে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা অডিটে বড় সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ। ইতিবাচক অডিট রিপোর্টে বিশ্বমঞ্চে আরও উজ্জ্বল হবে দেশের ভাবমূর্তি। ঢাকায় বিশ্বখ্যাত এয়ারলাইন্সের কার্যক্রম ও পর্যটকের সংখ্যা বাড়ার আশা করছে সিভিল এভিয়েশন। একইসঙ্গে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বিনিয়োগ ও বাণিজ্যেও। পরিবর্তন আসতে পারে ইউরোপগামী রফতানি বাণিজ্যে থাকা কড়াকড়িতেও।


ঢাকা ও সিলেট বিমানবন্দর থেকে যুক্তরাজ্যগামী পণ্য বা কার্গোর পাশাপাশি যাত্রী নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও ভালো স্কোর পেয়েছে যুক্তরাজ্যের ডিপার্টমেন্ট ফর ট্রান্সপোর্ট বা ডিএফটির অডিট দল। সম্প্রতি বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করে সন্তোষজনক রিপোর্ট দিয়েছে দলটি।


সিভিল এভিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ডিএফটি অডিটেও যুক্তরাজ্যগামী পণ্য বা কার্গো পরিবহনের ক্ষেত্রে শতভাগ কমপ্লায়েন্স বা মান ধরে রেখেছে ঢাকা ও সিলেট বিমানবন্দর। এ বছর যাত্রী নিরাপত্তার মানও বেড়েছে দুই বিমানবন্দরে। ঢাকার স্কোর এক পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৪ শতাংশে।


অন্যদিকে, চার পয়েন্ট বেড়ে সিলেট বিমানবন্দরের স্কোর এখন ৯৮ শতাংশ। সিভিল এভিয়েশন বলছে, নতুন এই রিপোর্ট বিদেশি বিনিয়োগ, গ্লোবাল এয়ারলাইন্সের কার্যক্রম পরিচালনা এবং পর্যটকের সংখ্যা বাড়াতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।


বেবিচকের সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমোডর মো. আসিফ ইকবাল বলেন, ‘নিরাপত্তাব্যবস্থায় আমরা দিন দিন, বছরভিত্তিক উন্নতি করছি। এটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমাদের জন্য একটি স্বীকৃতি। জাতীয় অর্থনীতি ও টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রেও এর ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে। কারণ, এর ফলে বিনিয়োগকারী, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট অপারেটর ও পর্যটকদের মধ্যে আস্থা বাড়বে। তারা দেশে বিনিয়োগ করবে এবং পর্যটকরাও আসবে, যা আমাদের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।’


ইউকে ডিএফটির এই ইতিবাচক মূল্যায়ন দেশের আকাশপথের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় একটি স্বীকৃতি। তবে ২০১৭ সাল থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের হাই রিস্ক কার্গো অ্যান্ড মেইল বা এইচআরসিএম ব্যবস্থার আওতায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা শর্তের মুখোমুখি বাংলাদেশ।


ডিএফটির ইতিবাচক অডিট রিপোর্ট ইইউর এই কড়াকড়ি কিছুটা নমনীয় করতে ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছে ক্যাব। এয়ার কমোডর মো. আসিফ ইকবাল বলেন, ‘হাই-রিস্ক কার্গো ও মেইলের ক্ষেত্রে যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তা প্রত্যাহারের জন্য আমরা জোরালোভাবে উদ্যোগ নিতে পারি। কারণ, ২০২৫ সালের ডিএফটি অডিটে আমরা ৯০-এর বেশি স্কোর পেয়েছি। এবারের অডিটেও ৯০-এর বেশি স্কোরের পাশাপাশি ইতিবাচক উন্নতির ধারাবাহিকতা রয়েছে।’


তবে এর প্রভাব সরাসরি নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ইউনাইটেড কলেজ অব এভিয়েশনের উপদেষ্টা এ. টি. এম. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়ন যখন দেখবে যে আমাদের নিরাপত্তাব্যবস্থায় উন্নতি হয়েছে, তখন তারা বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে নেবে। তবে তাদের নিজস্ব অডিটও হবে। সে দিক থেকে এর প্রভাব পরোক্ষভাবে পড়বে। কিন্তু সরাসরি কোনো বড় ধরনের পার্থক্য আমরা হয়তো দেখতে পাব না।’


আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বেবিচকসহ ঢাকা ও সিলেট বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা মূল্যায়ন করবে ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশন বা আইকাও। এ সময় বডি স্ক্যানার, এক্স-রে মেশিন ও আধুনিক স্ক্যানিং সরঞ্জামসহ বিমানবন্দরগুলোর সার্বিক ব্যবস্থাপনা পর্যালোচনা করা হবে। এবারের অডিটে ৭৫ শতাংশের বেশি নম্বর অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সিভিল এভিয়েশন।

আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা অডিটে বড় সাফল্য, বিদেশি এয়ারলাইন্স-পর্যটক বাড়ার আশা | সময় নিউজ