আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৪

সাবেক ডানপন্থি প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর ছেলে ফ্লাভিও বলসোনারো। ছবি: রয়টার্স
ফ্লাভিও সাবেক ডানপন্থি প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর ছেলে। গত নির্বাচনে পরাজয়ের পর অভ্যুত্থানের চেষ্টার অভিযোগে বর্তমানে ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন তিনি।
সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় রোববার (৪ অক্টোবর) ভোট গ্রহণের পর বিকেলে ফল আসতে শুরু করে। প্রায় ৯৮ দশমিক ৮১ শতাংশ ভোট গণনা শেষে ফ্লাভিও পেয়েছেন ৪৭ দশমিক ২৪ শতাংশ এবং লুলা পেয়েছেন ৪৪ দশমিক ৯১ শতাংশ ভোট।
ফ্লাভিওর এই ফলাফল নির্বাচনী পূর্বাভাসের তুলনায় ভালো। প্রথম দফায় বাদ পড়া কয়েকজন প্রার্থী দ্বিতীয় দফায় তাকে সমর্থন করতে পারেন। ফলে চূড়ান্ত ভোটে ফ্লাভিওর জয়ের সম্ভাবনা বেড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ভোট দেওয়ার পর ৮০ বছর বয়সী লুলা সতর্ক করে বলেন, এবারের নির্বাচনে ‘গণতন্ত্র ও বর্বরতার’ মধ্যে একটিকে বেছে নিতে হবে। অন্যদিকে ৪৫ বছর বয়সী ফ্লাভিও বলেন, তিনি ‘ব্রাজিলের জনগণকে মুক্ত করতে’ চান।
ব্রাজিলের রাজনীতিতে বাম ও ডানপন্থার দুই প্রধান মুখ লুলা ও ফ্লাভিও। তাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনীতি আবারও তীব্রভাবে বিভক্ত হয়েছে। সার্বভৌমত্ব, অপরাধ, অর্থনীতি ও দুর্নীতি—এবারের নির্বাচনে ভোটারদের প্রধান উদ্বেগের বিষয়।
লুলা চতুর্থবারের মতো প্রেসিডেন্ট হওয়ার চেষ্টা করছেন। এর আগে ২০০২, ২০০৬ এবং ২০২২ সালে নির্বাচিত হন তিনি। ২০২২ সালের নির্বাচনে জইর বলসোনারোকে ২ শতাংশেরও কম ভোটের ব্যবধানে হারান, যা ব্রাজিলের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ প্রেসিডেন্ট নির্বাচন।
ওই নির্বাচনের পর ২০২৩ সালের ৮ জানুয়ারি বলসোনারোর সমর্থকেরা সরকারি বিভিন্ন ভবনে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। কারাদণ্ড পাওয়ার আগেই জইর বলসোনারোকে পুনরায় নির্বাচনে অংশ নেয়া থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। পরে তিনি তার বড় ছেলে ফ্লাভিওকে নিজের উত্তরসূরি হিসেবে সমর্থন দেন।

