নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:৪৩

বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিল্প, প্রযুক্তি ও উন্নয়ন সহযোগিতা আরও জোরদার করতে দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যবিষয়ক উপমন্ত্রী হিয়েজিন কোয়ান এবং কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (কোয়িকা) ভাইস প্রেসিডেন্ট দো ইয়ং-আহর সঙ্গে আলাদা বৈঠক করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে এসব বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্য, শিল্প ও সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্যবিষয়ক উপমন্ত্রী হিয়েজিন কোয়ানের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সহযোগিতার সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তর ও শিল্পোন্নয়নে দক্ষিণ কোরিয়ার ভূমিকারও প্রশংসা করেন তিনি।
গত আগস্টে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সিইপিএ) চূড়ান্ত হওয়ার বিষয়টিকে স্বাগত জানান হুমায়ুন কবির। তিনি আশা প্রকাশ করেন, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রেক্ষাপটে এই চুক্তি কোরিয়া ও আঞ্চলিক সরবরাহব্যবস্থায় বাংলাদেশের আরও গভীরভাবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি করবে।
প্রয়োজনীয় অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের প্রস্তাবিত বাংলাদেশ সফরের সময় চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে সই হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী।
দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যের কথা তুলে ধরে বাংলাদেশি পণ্য ও সেবা আমদানি বাড়াতে এবং বাণিজ্য ঘাটতি ধীরে ধীরে কমিয়ে আনতে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতি আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে বাংলাদেশের কৃষি, মৎস্য ও খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে খাদ্যনিরাপত্তা পরিদর্শন ও কোয়ারেন্টিন প্রক্রিয়া সহজ করার অনুরোধ জানান।
আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব (আরসিইপি) চুক্তিতে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রেও দক্ষিণ কোরিয়ার সহযোগিতা চান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। পাশাপাশি দেশটির বড় শিল্পগোষ্ঠী ও ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করেন তিনি। যৌথ বিনিয়োগ উদ্যোগ এবং সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) সহযোগিতার মাধ্যমে এ বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন হুমায়ুন কবির।
জবাবে দক্ষিণ কোরিয়ার উপমন্ত্রী বাংলাদেশ–কোরিয়া অর্থনৈতিক সম্পর্কের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন। সিইপিএর আওতায় দুই দেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শিল্প সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে কোরিয়ার আগ্রহের কথা জানান তিনি।
অন্যদিকে, কোয়িকার ভাইস প্রেসিডেন্ট দো ইয়ং-আহর সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে অনুদান, দক্ষতা বৃদ্ধি, কারিগরি সহযোগিতা ও জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে সংস্থাটির দীর্ঘদিনের অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
এ সময় ৩ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলারের ‘সেমাউল প্লাস এন্ড পোভার্টি প্রোগ্রাম’-এর জন্য কোয়িকাকে ধন্যবাদ জানান তিনি। পাশাপাশি পানির নিরাপত্তা, জলবায়ু সহনশীলতা, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থানমুখী কারিগরি শিক্ষা ও ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ ও কোয়িকার সহযোগিতার পরবর্তী পর্যায়ে আরও বড় পরিসরের, সমন্বিত ও রূপান্তরমূলক উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করেন হুমায়ুন কবির। ডিজিটাল রূপান্তর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং ডিজিটাল জনসেবার মতো খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
এ ছাড়া ঢাকার মেট্রোরেল (এমআরটি) প্রকল্পগুলোর অর্থায়নে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়ার দ্রুত সম্মতি দেয়ার অনুরোধ জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
কোয়িকার ভাইস প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগিতা সম্প্রসারণের আগ্রহকে স্বাগত জানান। বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার এবং দক্ষিণ কোরিয়ার উন্নয়ন সহযোগিতার অভিজ্ঞতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন খাত ও কর্মসূচি নিয়ে কাজ করার প্রস্তুতির কথাও জানান তিনি।
বৈঠক দুটিতে পারস্পরিক স্বার্থ ও অভিন্ন অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও গভীর করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিল্প সহযোগিতা, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও উন্নয়ন সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়েও গুরুত্ব দেয়া হয়।

