আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৬

যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়া চাঁদে পারমাণবিক চুল্লি স্থাপনের প্রতিযোগিতায় নেমেছে। ছবি: নাসা
চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে পারমাণবিক চুল্লি বসানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা-নাসা ঠিকাদারদের এমন একটি চুল্লি তৈরির প্রস্তুতি নিতে বলেছে, যা মহাকাশযাত্রার ধকল সামলে চাঁদের পৃষ্ঠে পৌঁছানোর পর দীর্ঘ সময় মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই চলতে পারবে। এর পেছনে রয়েছে নতুন প্রতিযোগিতা।
চীনের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে ২০৩৬ সালের মধ্যে চাঁদে পারমাণবিক চুল্লি চালুর পরিকল্পনা করছে রাশিয়া। তাই প্রতিদ্বন্দ্বীদের আগে চাঁদের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অবস্থান নিশ্চিত করতে নিজেদের সময়সূচি এগিয়ে এনেছে যুক্তরাষ্ট্র।
চীন, যুক্তরাষ্ট্র—দুই দেশই চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি স্থাপনের পরিকল্পনা করছে। চাঁদের সম্পদ কাজে লাগানো এবং সেখান থেকে সৌরজগতের আরও গভীরে অভিযান চালানো তাদের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য। আর এর স্থায়ীত্বের জন্য নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে ‘সেলেনা’ নামের চুল্লি তৈরির দায়িত্ব দিয়েছে মস্কো। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এটি সর্বোচ্চ ১০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারবে, প্রায় এক দশক স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করবে। অন্যদিকে, নাসার প্রস্তাবিত ‘লুনার রিঅ্যাক্টর ১’ থেকে প্রায় ২০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১৬টি সাধারণ বাড়ির বিদ্যুৎ চাহিদার সমান।
তবে উচ্চাভিলাষী এসব পরিকল্পনার সঙ্গে রয়েছে বড় ঝুঁকি। চুল্লিগুলো চাঁদে পৌঁছানোর আগে চালু করা হবে না বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া। উৎক্ষেপণের সময় জ্বালানি থাকবে ‘আন-ইরেডিয়েটেড’ অবস্থায়। এতে ঝুঁকি কমলেও দূর হচ্ছে না দুর্ঘটনার শঙ্কা।
বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ, বেশিরভাগ উৎক্ষেপণ কেন্দ্র কোনো না কোনো জলাশয়ের কাছাকাছি। চুল্লিবাহী রকেট যদি পানিতে পড়ে যায় নতুন ধরনের ঝুঁকি তৈরির আশঙ্কা তাদের।
চাঁদের পৃষ্ঠে পৌঁছানোর পরও ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে। চুল্লি ব্যর্থ হয়ে বিস্ফোরণ, গলন বা ধ্বংসের ঘটনা ঘটলে তেজস্ক্রিয় পদার্থ ছড়িয়ে পড়তে পারে। এমনকি কোনো অঞ্চল দীর্ঘ সময়ের জন্য মানুষের প্রবেশের অনুপযোগী হয়ে পড়ার শঙ্কাও রয়েছে।
তবে বাস্তব চ্যালেঞ্জ শুধু নিরাপত্তায় সীমাবদ্ধ নয়। চাঁদের অমসৃণ পৃষ্ঠে ভারী ও তেজস্ক্রিয় সরঞ্জাম নিরাপদে নামানোর সক্ষমতা এখনো পুরোপুরি তৈরি হয়নি। যার কারণে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীন বেশ কয়েকটি মহাকাশ প্রকল্পের সময়সূচি আগেও পিছিয়েছে। ফলে ঘোষিত সময়ের মধ্যে চুল্লি স্থাপন সম্ভব হবে কি না, তা নিয়েও রয়েছে সংশয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প মহাকাশে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকে তার ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির অংশ হিসেবে তুলে ধরেছেন। চীন ও রাশিয়াও মহাকাশে নিজেদের প্রভাব বাড়ানোর উচ্চাকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছে। ফলে চাঁদের মাটিতে প্রথম পারমাণবিক চুল্লি স্থাপনের সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে ভবিষ্যতের মহাকাশ রাজনীতি, সম্পদ নিয়ন্ত্রণ এবং বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্যও।

