অন্তরা সেন
প্রকাশ: ৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৮
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ফলের পসরা সাজিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। ছবি: সময় সংবাদ
সাধারণ মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাচ্ছে বিদেশি ফলের বাজার। যেসব ফল একসময় সহজেই রোগীর পথ্য হিসেবে বিবেচিত হতো, সেগুলোই এখন হয়ে উঠছে বিলাসী পণ্য।
রাজধানীর বাজার পরিস্থিতি বলছে, দুই সপ্তাহ আগেও যে মাল্টা ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে, বর্তমানে তা বেড়ে ৪০০ থেকে সাড়ে ৫০০ টাকায় ঠেকেছে। একই চিত্র আনার, আপেল ও আঙুরের দামেও। উচ্চমূল্যের কারণে অনেকেই এখন খরচের তালিকা থেকে এসব ফল বাদ দিচ্ছেন।
খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, আমদানি পর্যায়ের কারসাজির কারণে ভোক্তাদের বাড়তি দামে ফল কিনতে হচ্ছে। এক বিক্রেতা বলেন, ‘আগে মাল্টা ২০০ থেকে ২৪০ টাকা দরে কিনতাম। এখন সেই মাল্টাই ৪০০ টাকা। দাম অনেক বেড়েছে। বাদামতলীতে কিনতে গিয়েও দেখি, মাল্টার দাম অনেক বেশি।’
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে জাহাজ চলাচলে। পাশাপাশি উচ্চ শুল্ক-কর, পরিবহন ও বন্দর খরচ বেড়ে যাওয়ায় কমেছে আমদানি। এমন দাবি করে ফ্রেশ ফ্রুটস ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন বলছে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে মাল্টা আমদানি হয়েছে ৩০ হাজার ৩৪৬ মেট্রিক টন। যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৭ হাজার ৫৫ মেট্রিক টন কম।
আমদানিকারক নাজিম উদ্দিন বলেন, যেসব পণ্যের ওপর সরকার নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে চায়, সেসব পণ্যে রেগুলেটরি ডিউটি আরোপ করা হয়। কিন্তু ফল নিয়ন্ত্রণ করার মতো কোনো পণ্য নয়। দেশে যেসব ফল উৎপাদন হয় না বা কম হয়, সেগুলোই আমদানি করতে হয়। দেশে মাত্র ৩৫ শতাংশ ফল উৎপাদিত হয়, আর বাকি ৬৫ শতাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়।
ট্যারিফ কমিশন বলছে, আমদানি করা ফলের ওপর সব মিলিয়ে শুল্কহার রয়েছে ৯৬ দশমিক ১০ থেকে ১২১ দশমিক ৭৮ শতাংশ পর্যন্ত। তাজা ফলকে বিলাসপণ্য নয়, পুষ্টি উপাদান হিসেবে বিবেচনা করে কর কমানোর সুপারিশ করার কথা ভাবছে সংস্থাটি।
বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের উপ-প্রধান মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘বেশি ডিউটি আরোপ করা হলে এর ফলে স্থানীয় শিল্প কতটা বাড়ছে, পাশাপাশি ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতার ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়ছে; সেটিও বিবেচনা করতে হবে। ডিউটি নির্ধারণের ক্ষেত্রে ভোক্তার স্বার্থও গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে গিয়ে যদি এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় যে ভোক্তাই পণ্যটি কিনতে পারছেন না, তাহলে বিষয়টি অবশ্যই পুনর্বিবেচনা করা যেতে পারে। সরকারও বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবে।’
তবে শুধু শুল্ক-কর কমিয়ে ফলের দাম নিয়ন্ত্রণে আসবে; এমন আশায় বসে থাকতে চায় না জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর। সাধারণ মানুষের নাগালে পণ্যের দাম রাখতে নিয়মিত তদারকি জোরদার করার আশ্বাস দিয়েছে সংস্থাটি।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, এক হাত থেকে পণ্য আরেক হাতে গেলেই দাম বাড়বে; এই প্রবণতা ও চিন্তা থেকে সরে আসতে হবে। মাঠ পর্যায়ে যারা কাজ করছেন, তাদের এ বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিবের সঙ্গেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে সরকার কার্যকর ব্যবস্থা নেবে।
তবে শুল্ক-কর কমানো ও কঠোর বাজার নজরদারি; দুই উদ্যোগ একসঙ্গে কার্যকর না হলে সাধারণ ক্রেতার নাগালের বাইরেই থেকে যেতে পারে পুষ্টিকর এসব ফল। এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

