আন্তর্জাতিক

গাজায় যাত্রীবাহী বাসে ইসরাইলের ড্রোন হামলা, নিহত ৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:৫৩

গাজায় যাত্রীবাহী বাসে ইসরাইলের ড্রোন হামলা, নিহত ৭

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) গাজা সিটিতে একটি যাত্রীবাহী মিনিবাসে ড্রোন হামলা চালায় ইসরাইলি বাহিনী

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার গাজা সিটির তেল আল-হাওয়া এলাকায় যাত্রীবাহী একটি বাসে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। এতে অন্তত সাত নিরস্ত্র ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ১৩ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট। 

 

রয়টার্সের প্রতিবেদন মতে, স্থানীয় সময় বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) পশ্চিম গাজা সিটিতে বেসামরিক যাত্রী বহনকারী একটি বাস লক্ষ্য করে ড্রোন থেকে হামলা চালানো হয়। স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, হামলায় ঘটনাস্থলেই কয়েকজন নিহত হন এবং আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়। 

 

হামলায় নিহতদের মধ্যে রয়েছেন আলজাজিরার গাজা প্রতিনিধি মোমেন আল-শারাফির ভাই আম্মার আল-শারাফি। রয়েছে ইউসুফ আদেল আল-হামারনা নামে ১৭ বছর বয়সি এক কিশোরও।

 

ইসরাইলি সামরিক বাহিনী পরে আম্মার আল-শারাফিকে হামাসের সামরিক শাখার একজন কমান্ডার হিসেবে দাবি করে। ইসরাইলি বাহিনীর ভাষ্য, তিনি ইসরাইলি সেনাদের বিরুদ্ধে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তবে ওই দাবির পক্ষে বিস্তারিত প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি।

 

অন্যদিকে গাজার সরকারি গণমাধ্যম কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা হামলাটিকে বেসামরিকদের ওপর হামলা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। স্থানীয় কর্মকর্তাদের অভিযোগ, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরও গাজায় ইসরাইলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। 

 

আল জাজিরার প্রতিবেদন মতে, মোমেন আল-শারাফির পরিবারের জন্য এটা নতুন করে বড় আঘাত। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে জাবালিয়া শরণার্থীশিবিরে ইসরাইলি হামলায় তার বাবা-মা, ভাই-বোনসহ পরিবারের ২২ সদস্য নিহত হন।

 

গাজায় যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও প্রায় প্রতিদিনই হামলা চালাচ্ছে ইসরাইল। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবরে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পরও ইসরাইলি হামলায় ১ হাজার ৪৩১ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৫ হাজার ২৬ জন আহত হয়েছেন।

 

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় কার্যত গণহত্যা চালাচ্ছে ইসরাইল। চলমান সামরিক আগ্রাসনে নিহতের সংখ্যা ৭৪ হাজার ছাড়িয়েছে বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। 

গাজায় যাত্রীবাহী বাসে ইসরাইলের ড্রোন হামলা, নিহত ৭ | সময় নিউজ