আন্তর্জাতিক

মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর সামরিক কার্যক্রম স্থগিতের ঘোষণা ইরাকের কাতাইব হিজবুল্লাহর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:৫৪

মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর সামরিক কার্যক্রম স্থগিতের ঘোষণা ইরাকের কাতাইব হিজবুল্লাহর

ইরাক থেকে মার্কিন সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পুরোপুরি প্রত্যাহারের পর দেশটিতে নিজেদের সামরিক কার্যক্রম স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী কাতাইব হিজবুল্লাহ। তবে ইরাকের আকাশসীমা লঙ্ঘন করা ‘শত্রু’ বলে বিবেচিত যেকোনো বিমানকে লক্ষ্য করে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে জানিয়েছে তারা।

 

এপির প্রতিবেদন মতে, বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ইরবিল বিমানঘাঁটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অবশিষ্ট সেনা ও সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়ার পর কাতাইব হিজবুল্লাহ এ ঘোষণা দেয়। এর মধ্য দিয়ে ইরাকে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক জোটের সামরিক মিশনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।

 

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইরাক থেকে সেনা প্রত্যাহারের মধ্য দিয়ে ‘অপারেশন ইনহেরেন্ট রিজলভ’-এর ইরাকভিত্তিক পর্ব শেষ হয়েছে। এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরাকের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সম্পর্কের নতুন পর্যায় শুরু হবে।

 

মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে নিজেদের সশস্ত্র কার্যক্রম বন্ধের অন্যতম শর্ত হিসেবে আগে থেকেই তুলে ধরেছিল কাতাইব হিজবুল্লাহ। ফলে সর্বশেষ ঘোষণাকে ইরাকে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হাতে থাকা অস্ত্র রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে আনার বাগদাদের প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

তবে সামরিক কার্যক্রম স্থগিতের ঘোষণার অর্থ অস্ত্র সমর্পণ নয় বলে জানিয়েছে কাতাইব হিজবুল্লাহ। গোষ্ঠীটির সামরিক মুখপাত্র জাফর আল-হুসেইনি বলেন, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে আলোচনা চলছিল। কিন্তু এ বিষয়ে ইরাকি সরকারের কাছ থেকে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

 

পরে তিনি বলেন, অস্ত্র হস্তান্তর নিয়ে সরকার কোনো সময়সীমা বা চুক্তি নির্ধারণ করলে ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স’ তার কাছে বাধ্য থাকবে না।

 

‘শত্রু বিমান’ মোকাবিলার অধিকার বজায় রাখার ঘোষণাও ইরাকের আকাশসীমায় ভবিষ্যতে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা পুরোপুরি বন্ধ করছে না। এ অবস্থায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ওপর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বিষয়টি বাগদাদ সরকারের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

 

ইরাকি সরকার দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর হাতে থাকা অস্ত্র রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে। এর আগে ৩০ সেপ্টেম্বরকে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা হিসেবে বিবেচনা করা হলেও পরে বাগদাদ স্পষ্ট করে যে, ওই তারিখটি ছিল আন্তর্জাতিক জোটের ইরাক থেকে প্রত্যাহারের সময়সীমা, মিলিশিয়াদের নিরস্ত্রীকরণের চূড়ান্ত সময়সীমা নয়। ইরাকি কর্মকর্তারা এখন এ প্রক্রিয়া ২০২৭ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত চালানোর বিষয়ে আলোচনা করছেন।

 

কাতাইব হিজবুল্লাহ ইরাকের অন্যতম শক্তিশালী শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠী। এটি পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেসের (পিএমএফ) অন্তর্ভুক্ত, যে রাষ্ট্রীয় কাঠামোটি ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সময় গড়ে তোলা হয়েছিল। গোষ্ঠীটির সঙ্গে ইরানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এবং অতীতে ইরাকে মার্কিন সেনা ও স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানোর অভিযোগ রয়েছে।

 

২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র কাতাইব হিজবুল্লাহকে ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। মার্কিন সরকার ইরাক ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য এলাকায় মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলার জন্যও গোষ্ঠীটিকে দায়ী করেছে।

 

এদিকে ইরাক থেকে মার্কিন সামরিক মিশন শেষ হলেও আইএসবিরোধী বৃহত্তর অভিযান পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না বলে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে। তারা আন্তর্জাতিক জোটের যৌথ টাস্কফোর্স এখন জর্ডানে সদর দফতর স্থাপন করবে এবং সেখান থেকে সিরিয়ায় আইএসবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখবে।

 

মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর ইরাকি সরকারের সামনে এখন মার্কিন সামরিক উপস্থিতি ছাড়াই নিরাপত্তা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির রাজনীতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য প্রভাব থাকা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে রাষ্ট্রের সম্পর্কও নতুন করে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

 

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান ও তাদের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে নিজেদের বিজয় হিসেবে দেখছে। তবে কিছু ইরাকি ও কুর্দি কর্মকর্তা নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং ইসলামিক স্টেটের অবশিষ্ট সদস্যদের নতুন করে সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর সামরিক কার্যক্রম স্থগিতের ঘোষণা ইরাকের কাতাইব হিজবুল্লাহর | সময় নিউজ