প্রতিবেদক, কুমিল্লা
প্রকাশ: ৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৪:৪৩

কুমিল্লা জেলা পুলিশ জানায়, উঠতি বয়সী কিশোরদের একটি অংশ মাদক সেবন, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, মোটরসাইকেল ছিনতাই থেকে শুরু করে হত্যার মতো গুরুতর অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও অস্বস্তি তৈরি হয়।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের নির্দেশনায় গত ১০ দিন ধরে পুরো কুমিল্লা জেলায় পুলিশ ও ডিবির সমন্বয়ে চিরুনি অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
এ অভিযানে এখন পর্যন্ত সন্দেহজনক দুই হাজারের বেশি কিশোরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, যাচাই-বাছাই শেষে অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং কিশোর গ্যাংয়ের সক্রিয় সদস্যদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা না পাওয়া কিশোরদের অভিভাবকদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে পুনর্বাসনের স্বার্থে তাদের পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
জেলা পুলিশের এ ধরনের কঠোর অভিযানের কারণে কুমিল্লার বিভিন্ন কিশোর গ্যাংয়ের শীর্ষ নেতারা আত্মগোপনে চলে যায়। এর মধ্যেই কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য ও অপতৎপরতা নির্মূলে জেলা পুলিশ সুপারের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে চলমান বিশেষ অভিযানে বড় ধরনের সাফল্য পায় ডিবি।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজার জেলা এবং কুমিল্লার বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে কুমিল্লার আলোচিত দুই কিশোর গ্যাং ‘টিম RAW’ ও ‘Crime Setup’-এর মূল নেতৃত্বদানকারী চার সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন ‘টিম RAW’ গ্যাংয়ের মূল চালিকাশক্তি ইমরান হোসেন রতন (১৯), তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ ৯টি গুরুতর মামলা রয়েছে। একই গ্যাংয়ের সদস্য সাইফুল ইসলাম (২০), তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধে ১০টি মামলা চলমান রয়েছে।
অন্যদিকে ‘Crime Setup’ গ্যাংয়ের শীর্ষ নেতা মো. সাব্বির ওরফে ‘পয়েন্ট সাব্বির’ (২৪), তার বিরুদ্ধে পূর্বের ১টি মামলা রয়েছে। একই গ্যাংয়ের আরেক নেতা রবিউল ইসলাম নবী ওরফে ‘কিং মেকার’ (২৪), তার বিরুদ্ধেও ১টি অপরাধমূলক মামলা রয়েছে।
কুমিল্লা জেলা পুলিশ জানিয়েছে, সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্টকারী এবং কিশোরদের অপরাধের পথে ধাবিতকারী কোনো গ্যাং বা গডফাদারকে ছাড় দেওয়া হবে না। কুমিল্লা থেকে কিশোর গ্যাং কালচার নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এ সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে।
একই সঙ্গে সন্তানদের নিয়মিত খোঁজখবর রাখা এবং তারা কার সঙ্গে মিশছে, কোথায় যাচ্ছে ও কী ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়াচ্ছে এসব বিষয়ে সচেতন থাকার জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জেলা পুলিশ।

