অর্থ-বাণিজ্য

আসিয়ান বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের হিস্যা বাড়াতে এফটিএ চান ব্যবসায়ীরা

কামরুল হাসান সবুজ

প্রকাশ: ৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:০১

আসিয়ান বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের হিস্যা বাড়াতে এফটিএ চান ব্যবসায়ীরা

ভালো পণ্যের পাশাপাশি প্রয়োজন ভালো ব্র্যান্ডিং ও মার্কেটিং। রফতানি বাজার সম্প্রসারণে এর গুরুত্ব যেমন সর্বাধিক, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ হলো যে দেশে পণ্য যাবে, সেই দেশ বা জোটবদ্ধ অঞ্চলে পণ্য প্রবেশে অগ্রাধিকারমূলক চুক্তি আছে কি না। এমন প্রেক্ষাপটে আসিয়ানভুক্ত দেশে বাংলাদেশি পণ্যের রফতানি আয় বাড়াতে অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদারের দাবি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর।


দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক জোট আসিয়ানে রয়েছে মালেয়শিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়াসহ ১১ দেশ। এসব দেশে বসবাস করেন ৭০ কোটি মানুষ। তাদের চাহিদা মেটাতে গড়ে উঠেছে প্রায় সাড়ে ৬শ বিলিয়ন ডলারের ফুড অ্যান্ড বেভারেজ মার্কেট। এর মধ্যে প্যাকেটজাত খাদ্যপণ্যের বাজার প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলারের।


অথচ ইপিবির তথ্য বলছে, ড্রাই ফুড, মসলা, ফলসহ বাংলাদেশি খাদ্যপণ্যের রফতানি মোটের ওপর ৪০ কোটি ডলারের সামান্য বেশি। ক্রমবর্ধমান এই বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের রফতানি বাড়াতে বড় বাধা ২০ থেকে ৩০ শতাংশ শুল্কের বোঝা।


এই শুল্ক কমাতে দেশ বা জোটভিত্তিক চুক্তি করার তাগিদ দিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। এরই মধ্যে এক ধাপ এগিয়ে মালয়েশিয়ার পিনাকল ফুডসকে সোল ডিস্ট্রিবিউটরশিপ দিয়েছে খাদ্যপণ্য প্রস্তুতকারী বাংলাদেশের জায়ান্ট প্রতিষ্ঠান প্রাণ। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, ঢাকা-কুয়ালালামপুর এফটিএ হলেও জোটভুক্ত সব দেশে শুল্কমুক্ত রফতানি সুবিধা পাবেন তারা।


পিনাকল ফুডসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সেলিম ভূঁইয়া বলেন, ‘মালয়েশিয়া থেকে ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড বা ব্রুনাইয়ের বাজারে সহজে প্রবেশ করতে পারছি না। কারণ, পণ্য আমদানির সময় আমাকে অনেক বেশি শুল্ক দিতে হচ্ছে। পরে যখন এখান থেকে পণ্য রফতানি করি, সেই সুবিধা সবাই পাচ্ছে। আমি যেমন সুবিধা পাচ্ছি, মালয়েশিয়ান কোম্পানিও একই সুবিধা পাচ্ছে, আবার ভারতীয় ও পাকিস্তানি কোম্পানিও পাচ্ছে। তাই মালয়েশিয়া ও আসিয়ান বাজারে দ্রুত নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে হলে, বিশেষ করে ব্রুনাই, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর ও ভিয়েতনামের বাজারে প্রবেশের জন্য আমাদের ট্রেড এগ্রিমেন্ট খুবই প্রয়োজন।’


আগামী বছরের শেষ নাগাদ ঢাকা-কুয়ালালামপুর মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সই হলেই আসিয়ান বাজারে রফতানি সম্প্রসারণে বাংলাদেশ বড় ভিত পাবে বলে মনে করেন মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশি হাইকমিশনার মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরী।


তিনি বলেন, ‘ট্রেড এগ্রিমেন্ট যদি হয়, ‘আসিয়ানের সঙ্গে এখন সরাসরি ট্রেড এগ্রিমেন্ট না থাকলেও, যদি মালয়েশিয়ার বাজারে প্রবেশ করতে পারি, তাহলে সেটিকে ভিত্তি ও হাব হিসেবে ব্যবহার করে ধীরে ধীরে আসিয়ানভুক্ত অন্যান্য বাজারেও প্রবেশ করা সম্ভব হবে।’


তবে চুক্তি করে বাজারে প্রবেশ করলেও দীর্ঘমেয়াদে হিস্যা বাড়াতে ভালো পণ্য প্রস্তুত ও ব্র্যান্ডিংয়ের বিকল্প দেখছেন না মালয়েশিয়া এক্সটার্নাল ট্রেড ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন ম্যাট্রেডের উপ-প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস জয় শংকর।


এফটিএ হলে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি পণ্যের রফতানি আয় বাড়বে। শুধু তাই নয়, এই চুক্তির সুবিধায় মালয়েশিয়াভিত্তিক বাংলাদেশি কোম্পানিগুলো আসিয়ানভুক্ত দেশে পণ্য রফতানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে।


তবে মোটের ওপর এই অঞ্চলে বাংলাদেশি পণ্যের রফতানি আয় বাড়াতে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদার করার পরামর্শ দিচ্ছেন আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষকরা।

আসিয়ান বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের হিস্যা বাড়াতে এফটিএ চান ব্যবসায়ীরা | সময় নিউজ