রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬:০৫

রাজশাহীতে নিহত সেনা সদস্য তাসনিম রিফাতকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হচ্ছে। ছবি: সময় সংবাদ
একদিন পরই বাড়ি ফেরার কথা ছিল সেনা সদস্য তাসনিম রিফাতের। ট্রেনিং শেষে তার ফেরার অপেক্ষায় প্রহর গুনছিল পুরো পরিবার। বাড়িতে তিনি ফিরলেন ঠিকই, তবে জীবিত নয়, নিথর দেহে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে যখন তাসনিমের মরদেহবাহী হিমগাড়ি এসে থামে রাজশাহীর দামকুড়ার বিন্দারামপুর গ্রামে, তখন কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা। আহাজারি আর আর্তনাদে থমকে যায় গোটা গ্রাম। প্রতিবেশী, বন্ধু ও পরিচিতজন সবাই ছুটে আসেন শেষবারের মতো প্রিয় মুখটি একনজর দেখতে।
বাদ জোহর জানাজা শেষে পারিবারিক গোরস্থানে সম্পন্ন হয় দাফন। মায়ের কবরের পাশেই তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। শেষ বিদায়ে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে দেয়া হয় গার্ড অব অনার। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় চিরবিদায় জানানো হয় এই সাহসী সৈনিককে।
এর আগে এদিন ভোরে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা হয়ে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে করে মরদেহ আনা হয় রাজশাহী সেনানিবাসে। সেখান থেকে ফ্রিজিং গাড়িতে করে নেয়া হয় তাসনিমের গ্রামের বাড়িতে।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ দফতর (আইএসপিআর) জানায়, বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে সেনাবাহিনীর ফায়ারিং মহড়া চলাকালে আকস্মিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান রিফাত।
স্বজনরা জানান, ট্রেনিং শেষে একদিন পরই ছুটি নিয়ে বাড়ি ফেরার কথা ছিল রিফাতের। ছুটি শেষে তার যোগ দেয়ার কথা ছিল বগুড়া সেনানিবাসে। গত বছর ক্যান্সারে মা মারা যাওয়ার পর থেকে বারবার রাজশাহীতে ফিরতে চাইতেন তিনি।
রাজশাহীর পবা উপজেলার দামকুড়া ইউনিয়নের বিন্দারামপুর গ্রামের সন্তান তাসনিম রিফাত ছিলেন তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে মেজো। প্রায় ১০ বছর ধরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন তিনি। মৃত্যুকালে তিনি আড়াই বছর বয়সী ছোট্ট মেয়ে জুঁইসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

