সফিকুজ্জামান রুবেল
প্রকাশ: ৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৫
বাসাবাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহ করছেন পরিচ্ছনতাকর্মীরা। ছবি: সময় সংবাদ
দুই দিন ধরে বাসার ময়লা-আবর্জনা নেয়া হয়নি। জমে থাকা বর্জ্য পচে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। মোহাম্মদপুরের এক বাসিন্দা ক্ষোভ ও হতাশা নিয়ে অভিযোগ করেন, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। প্রায়ই একদিন, কোথাও কোথাও দুই দিন পর ময়লা নিতে আসেন সংগ্রহকারীরা।
ঢাকার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদেরও একই অভিযোগ। তারা বলেন, আগে প্রতিদিন ময়লা সংগ্রহ করা হলেও এখন নিয়মিত আসেন না সংগ্রহকারীরা। একদিন পর কিংবা দুই দিন পর ময়লা নিতে আসায় বর্জ্য জমে দুর্গন্ধ ছড়ায়। এতে বিশেষ করে নিচতলার বাসিন্দাদের বেশি সমস্যায় পড়তে হয়।
শুধু ময়লা সংগ্রহে অনিয়ম নয়, অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। নির্ধারিত ১০০ টাকার জায়গায় কোথাও নেয়া হচ্ছে ১২০ থেকে ১৫০ টাকা। এ নিয়ে কথা বললে হামলা এবং ময়লা না নেয়ার হুমকি দেয়ার অভিযোগও করেছেন অনেকে।
একজন ভুক্তভোগী বলেন, কিছুদিন যেতে না যেতে ময়লা সংগ্রহের টাকা ১৫০ টাকা করে নেয়া শুরু হয়। এখন ১৬০ থেকে ১৭৫ টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। প্রতি মাসে টাকা বাড়ানো হচ্ছে। টাকা না দিলে ময়লা নেয়া বন্ধ করে দেয়া হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্জ্যকে সম্পদে পরিণত করতে হবে। সেবামূলক ব্যবস্থাকে লাভের জায়গা বানালে কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলবে না। একই সঙ্গে বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে। পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন আন্দোলনের (পরিজা) সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আহমেদ উজ্জ্বল বলেন, ‘যারা পরিবেশ নিয়ে আন্তরিকভাবে কাজ করেন, কথা বলেন এবং কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ বা নির্দিষ্ট কোনো প্রকল্পের উদ্দেশ্যে কাজ করেন না, তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে সরকারের সদিচ্ছাকে কাজে লাগাতে হবে। এ জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করা প্রয়োজন। তবেই এর একটি কার্যকর প্রভাব পড়তে পারে।’
স্থপতি ও নগরবিদ মো. ইকবাল হাবিব বলেন, ‘আমরা এখনো এলাকার রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের তোষণ-পোষণে তাদের ব্যবহার করছি। অথচ বর্জ্যকে উৎসে পৃথক করে সম্পদে পরিণত করা এবং বৈজ্ঞানিকভাবে এর নিষ্পত্তির যে ব্যবস্থা, সেটি এখনো আমরা করতে পারছি না।’
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন জানায়, সরকার ক্লিন সিটি গড়তে বদ্ধপরিকর। অব্যবস্থাপনা ও অতিরিক্ত টাকা আদায়ে জড়িতদের তালিকা করে বাদ দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম বলেন, ‘বিভিন্ন জায়গায় এ ধরনের অব্যবস্থাপনা রয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, সেদিকে আমরা নজর রাখব। যারা এসবের সঙ্গে জড়িত, তাদের চিহ্নিত করছি এবং অভিযোগগুলোও শুনছি। ভবিষ্যতে যাতে তারা এ ধরনের কাজের সুযোগ না পায়, সে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
বর্তমানে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান-পিসিএসপির মাধ্যমে বর্জ্য সংগ্রহ করছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। ঘনবসতির এই শহরকে পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে গড়ে তোলা কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা, ডাম্পিং ব্যবস্থা বৃদ্ধি, নাগরিক সচেতনতা এবং একই সঙ্গে প্রতিদিন বর্জ্য সংগ্রহ; এই সমন্বিত প্রচেষ্টাই পারে সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তুলতে।

